Aaj India Desk, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তৈরি হয় অস্থিরতা। প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে সুর নরম করেছেন রিঙ্কু মজুমদার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দলের স্পষ্ট নির্দেশ এবং স্বামী দিলীপ ঘোষের সতর্ক পদক্ষেপ।
রিঙ্কু মজুমদার আগে অভিযোগ তুলেছিলেন যে রাজারহাট-নিউটাউনের মনোনীত প্রার্থী পিযুষ কানোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছেন। তবে, দিলীপ ঘোষ স্পষ্টভাবে জানান, “রিঙ্কু আমার স্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই বিজেপির কর্মী। কে কী বলছে, তার দায়িত্ব আমার নয়।”
এই মন্তব্যের পর রিঙ্কু তার বক্তব্যের সুর নরম করে দেন। তিনি বলেছেন, “আমি কখনও টিকিটের জন্য মরিয়া ছিলাম না। দল যাকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাকেই টিকিট দিয়েছে।” তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “রাজারহাট-নিউটাউনের প্রার্থী আমার পছন্দ নয়। একজন সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিলে দলের লাভ হতো।”
তবে বিজেপির (BJP) অন্দরমহলে রিঙ্কু মজুমদারের এমন মন্তব্য এবং তার পরবর্তী সুর নরম হওয়া একবারে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং অস্থিরতার ছবি তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্পষ্ট সংকেত যে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ না হোক এবং জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়াক, সে উদ্দেশ্যে রিঙ্কুর প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এভাবে, দলের নির্দেশে এবং স্বামীর প্রভাবের কারণে রিঙ্কু মজুমদারের প্রকাশ্য বক্তব্যের সুর পরিবর্তন বিজেপির অভ্যন্তরীণ একতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রকাশ্য বিরোধ এবং পরবর্তী “নরম সুর” ভবিষ্যতে দলের জনমত পরিচালনা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করতে পারে।


