Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে জোরদার প্রচারের মধ্যেই একাধিক কেন্দ্রে জনতার সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বিজেপি (BJP) প্রার্থীরা। ময়না, আসানসোল দক্ষিণ সহ একাধিক ক্ষেত্রেই বারবার সাম্প্রতিক প্রচারে উঠে এসেছে ক্ষোভ, অনুপস্থিতির অভিযোগ এবং কাজের হিসাব চাওয়ার প্রবণতা।
ময়নায় দিন্দাকে ঘিরে ক্ষোভ
রবিবার সকালে ময়নায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে বেরিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিজেপি (BJP) প্রার্থী অশোক দিন্দা। একজন প্রবীণ ভোটার সরাসরি জানতে চান, “অভিযোগ জানাব কোথায়? গ্রাম পঞ্চায়েতে পারি না, ব্লকে পারি না, আপনাকেও দেখি না।” প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দিন্দা পঞ্চায়েতের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ভোটার সন্তুষ্ট হননি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “বিধায়ক হয়েও এলাকায় দেখা যায়নি কেন? কী কাজ হয়েছে?”
দিন্দা খাল সংস্কারের মতো কিছু কাজের কথা উল্লেখ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি অভিযোগ শোনার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দের কথা মন দিয়ে শোনেন।
আসানসোল জুড়ে অসন্তোষের সুর
অন্যদিকে, আসানসোল দক্ষিণে প্রচারে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েন বিজেপি (BJP) বিধায়ক ও প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। পাঁচ বছর পর এলাকায় সক্রিয় প্রচারে নেমে স্থানীয়দের একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হন তিনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এলাকায় দেখা যায়নি তাঁকে। সরাসরি প্রশ্ন ওঠে, “এতদিন ছিলেন কোথায়? এখন কেন ভোট চাইতে এসেছেন?” প্রচারের সময় সংশ্লিষ্ট পাড়ার নাম জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে না পারায় আরও অসন্তোষ ছড়ায় বলে জানা গেছে।
বদলাতে পারে প্রচারের কৌশল
দুই ক্ষেত্রের ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে প্রচার নয়, বরং পাঁচ বছরের কাজের হিসাব এবং নিয়মিত জনসংযোগ এখন ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের সরাসরি প্রশ্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির চাহিদা বাড়ারই লক্ষণ। বিশেষ করে লোকাল ইস্যু, রাস্তা, পরিষেবা, প্রশাসনিক যোগাযোগ, এই বিষয়গুলোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে প্রচারের প্রস্তুত স্ক্রিপ্টের বাইরে বেরিয়ে বাস্তব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে প্রার্থীদের। এর প্রভাব নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারের ধরনে পড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


