কলকাতা: রাজ্যে বেজে গিয়েছে ভোটের দামাম। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের সাথে সাথেই জারি হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct)। রবিবার নির্ঘণ্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাফ জানিয়েছিলেন, রাজ্যে কোথাও অশান্তি হলে বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এদিকে, ভোট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়েছেন দাপুটে নেতারা।
শুক্রবার মহিষাদল থানায় ঢুকে ডিউটিরত অফিসারকে কার্যত প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘অভিমানী’ বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে দল ভাঙানোর চেষ্টা—এমন অভিযোগ তুলে মহিষাদল থানায় ডিউটি অফিসারকে সতর্ক করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মহিষাদল থাকার ডিউটিরত অফিসারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল বেতন দেয় না। ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। আমি সতর্ক করে দিয়ে গেলাম। আপনি বলবেন, বিশ্বনাথ ব্যানার্জি সব রেকর্ডিং করে আমাকে দিয়েছেন। বিশ্বনাথ ব্যানার্জির বাড়ি থেকে আসছি। এটা পুলিশের কাজ নয়। বেতন তৃণমূল দেয় না। ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। অশোক স্তম্ভ লাগানো আছে। নির্বাচন কমিশনের গাইড-লাইন অনুযায়ী কাজ করতে বলবেন।”
বস্তুত, ২০২১-এ মহিষাদলে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এ বার টিকিট না পেয়ে ‘অভিমানী’ হয়ে পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দেন। তাঁর বাড়িতে গিয়ে বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, এরপরই মহিষাদল থানার ওসির নাম করে ফোন করে তাঁকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। এদিন ওসির সঙ্গে দেখা করেই ‘সতর্ক’ করতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু তিনি না থাকায় থানায় ঢুকে ডিউটিরত অফিসারকে ‘সতর্ক’ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
কমিশন কি ‘সুয়ো মোটো’ করবে?
এখন প্রশ্ন উঠছে, যে কমিশনের গাইড-লাইন অনুযায়ী কাজ করার কথা বললেন শুভেন্দু, তিনি নিজে কি নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) মানলেন? অথবা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ডিউটিরত অফিসারকে কি ‘খোলা হুঁশিয়ারি’ দেওয়া যায়? এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত যদিও মহিষাদল থানার ওসি বা ডিউটি অফিসার প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাঁরা কি শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবেন? আর যদি তা-না ও হয়, তাহলে কি নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করবে?
থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি আরাবুলের
অন্যদিকে, কার্যত একই রকম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সদ্য আইএসএফে যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। পোলেরহাট সবজি বাজার থেকে পোলেরহাট গরুহাটা পর্যন্ত কয়েক হাজার কর্মী নিয়ে মিছিল থেকে আরাবুল হুঁশিয়ারি দেন, ভাঙড়ে আইএসএফের ছেলেদের মিথ্যা কেসে ফাঁসানো হলে থানা অচল করে দেবেন। থানা ঘেরাও করে কোনও অফিসারকে বেরতে দেওয়া হবে না। ভোটের আগে রাজনৈতিক নেতাদের হুঁশিয়ারির উত্তাপ ক্রমশ চড়ছে। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই দুই হুঁশিয়ারির ভিডিও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কি এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবেন? সেটাই দেখার।


