Aaj India Desk, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে ‘যুব সাথী’ নগদ টাকা প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল অনেকটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর এর মাষ্টার মাইন্ড স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুধু নতুন প্রকল্পই নয়, ভাতার অঙ্ক বাড়িয়েও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সরকার , আশা দিয়েছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। ফলে সামাজিক সুরক্ষা থেকে আর্থিক সহায়তা সব ক্ষেত্রেই জোরদার হয়েছে
‘ডাইরেক্ট বেনিফিট’ মডেল নীতির পথেই আপাতত রাজ্য সরকার
এবার সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) । চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য সামনে রেখে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার। সূত্রের খবর, একাধিক নতুন প্রতিশ্রুতি ও জনমুখী পরিকল্পনা জায়গা পেয়েছে সেই খসড়ায়।
সব কিছু ঠিক থাকলে, শুক্রবার অথবা শনিবারের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ইস্তেহার। ফলে এখন শুধু নজর নতুন প্রতিশ্রুতির ঝুলি কতটা ভরাট, আর তা ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ইস্তেহারে সামাজিক সুরক্ষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ানো, স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ এই তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাইছে শাসক শিবির। পাশাপাশি নতুন কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকেও এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
একই সঙ্গে এবারের ভোট লড়াইয়ে ‘বাংলা অস্মিতা ‘কেও বড় হাতিয়ার করতে চলেছে দল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই একাধিক সভা সমাবেশে বাঙালির আত্মসম্মান ও অধিকার প্রসঙ্গ তুলে সরব হয়েছেন। ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ সামনে এনে প্রতিবাদও জানিয়েছেন তিনি। ধর্মতলার মঞ্চ সেই ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলা বিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলে সুর আরও চড়িয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার নির্বাচনের ময়দানে কার্যত নতুন করে আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে চলেছে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের স্লোগান ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়।’ আর ২০২৬-কে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নতুন স্লোগান সামনে এসেছে—’যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই বাঁচাবে বাংলা মাকে।’
এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের জন্য ইস্তেহারে ঠিক কী কী প্রতিশ্রুতি থাকে এবং সেই বার্তা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।


