Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সক্রিয় হলেন নব নিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)। বৃহস্পতিবার লোক ভবনে তিনি নবনিযুক্ত মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্গমিত্রা ঘোষ-এর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে এটি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা মূল্যায়নে জোর
বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন রাজ্যপাল (RN Ravi)। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট, সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনের সময় যাতে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনী প্রস্তুতির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা
শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বুথ ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলিতে কীভাবে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ বাস্তবায়নে রাজ্য প্রশাসন কতটা প্রস্তুত, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রশাসনিক রদবদলের প্রেক্ষাপট
নির্বাচন ঘোষণার পরই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনে বড় রদবদল হয়। মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মীণাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের জায়গায় দায়িত্ব নেন দুষ্মন্ত নারিওয়াল ও সঙ্গমিত্রা ঘোষ। এই পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে হওয়ায়, নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় গড়ে তোলাই ছিল এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই ধরনের বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যপাল প্রশাসনিক নজরদারির একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের মত। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তাঁর ভূমিকা কতটা সক্রিয় হবে, তার একটি ইঙ্গিতও এই বৈঠকে মিলেছে।
দিল্লি সফরের পর সক্রিয়তা
সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)। সেই সফর শেষে রাজ্যে ফিরে সরাসরি প্রশাসনিক বৈঠকে বসা, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের সক্রিয়তা সাধারণ হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন—এই দুইয়ের মাঝে রাজ্যপালের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে, এই সক্রিয়তা ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


