Aaj lndia Desk,কলকাতা: ভোটের আগে রাজ্যে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ভোটার তালিকা (Voter List)। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রায় ৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে এই সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন বহু আবেদন ও আপত্তি জমা পড়েছে। এখনও বিপুল সংখ্যক নাম যাচাই প্রক্রিয়ায় থাকায় চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা (Voter List )প্রকাশের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ভোটের আগে সময় দ্রুত ফুরোচ্ছে, কিন্তু এখনও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বিবেচনাধীন (Under consideration)। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাই তালিকায়, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার নাম নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে এখনও ঝুলে রয়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ নাম।
প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা শুক্রবার বা শনিবার প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। সেই তালিকায় প্রায় ৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে, অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ নাম ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনা। কমিশনের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ২ লক্ষ করে নাম নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং বাকি ২১ দিনের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক নাম যাচাই কতটা বাস্তবসম্মত।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব ‘ কেবন মাত্র পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করেই নেওয়া হচ্ছে। তিনি এও বলেন , নির্বাচনের আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি সহ ৫০ -এর বেশি শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেরই ইঙ্গিত।পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর দাবি, এতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও উপেক্ষিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ করেন বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-এর বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনসমর্থন না পেয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বাংলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও অস্থিরতার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। একই সঙ্গে সরানো আধিকারিকদেরই আবার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে এই দ্বিচারিতারও সমালোচনা করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা (Voter List) নিয়ে এই নতুন বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ইস্যু বড় রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছেন একাংশ।


