24 C
Kolkata
Thursday, March 19, 2026
spot_img

সুপ্রিম কোর্টে আইনি বাধার সম্মুখীন ED, মামলার অধিকার নিয়েই উঠছে প্রশ্ন !

Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক অফিসে EDর তল্লাশি ঘিরে বিতর্ক গড়িয়ে এখন শীর্ষ আদালতে। বুধবার কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির দায়ের করা রিট পিটিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইডির আদৌ মামলা করার কোনো অধিকার আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বুধবার বিচারপতি পঙ্কজ মিশ্র ও বিচারপতি এন.ভি. অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। রাজ্যের আইনজীবী সাফ জানান, ED একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিভাগ। তাই তারা সরাসরি অনুচ্ছেদ ৩২, ২২৬ বা ২২৭-এর অধীনে মামলা করতে পারে না। তিনি যুক্তি দেন, সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (Fundamental Rights) মূলত ব্যক্তির অধিকার রক্ষার জন্য। কোনও সরকারি সংস্থা নিজেকে ‘ব্যক্তি’ হিসেবে দাবি করে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলতে পারে না। ফলে EDর আবেদন আইনি ভিত্তিতে টেকসই নয়।

রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংবিধানে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই পথ এড়িয়ে কোনও সংস্থা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারে না। এভাবে অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি বিভাগও একই পথে মামলা করতে পারে, যা সংবিধানের কাঠামোর পরিপন্থী। শুনানিতে ‘parens patriae’ নীতির প্রসঙ্গও ওঠে। রাজ্যের আইনজীবী বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার এই নীতি প্রয়োগ করতে পারে, যেমন ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির ঘটনায় হয়েছিল। তবে সেই ক্ষমতা কোনও পৃথক সংস্থার নেই।

অন্যদিকে, যদি মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা কী হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। বিচারপতিরা সতর্ক করেন, এ ধরনের নজির তৈরি হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে। রাজ্যের আইনজীবী আরও দাবি করেন, এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকায় বৃহত্তর বেঞ্চে (কমপক্ষে পাঁচ বিচারপতি) শুনানির প্রয়োজন হতে পারে। এদিন শুনানির এক পর্যায়ে আদালত কিছু প্রশ্নে সরাসরি মত দেয়নি বলেও জানানো হয়।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাক মামলায় এই শুনানি শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার আইনি বৈধতা নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতার সীমা এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে তুলে ধরেছে। শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কীভাবে অনুসরণ করা হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাতে পারে বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন