কলকাতা: টলিউডি মুখ, তরুণ-তুর্কি নির্ভর নয়, ছাব্বিশের ময়দানে ৪১ থেকে ৬০-এর উপরই ভরসা রাখল তৃণমূল। ৪১-৫০ বছর বয়সী প্রায় ৮৮ জনকে প্রার্থী (TMC Candidate List) করেছে দল। ৪১-৬০ এর মধ্যে টিকিট পেলেন প্রায় ৮৯ জন! যদিও সদ্য জেল ফেরত এবং ঘরে ফেরা দুই বর্ষীয়ান নেতা, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া বিরতই থাকলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উল্লেখযোগ্যভাবে মহিলা প্রার্থীর নাম প্রায় ৫২। ৩১-এর কম বয়সী মোটে চারজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
ব্রাত্য ৭৪ জন সিটিং MLA
বিধানসভা ভোটের আগে বড়সড় ঝুঁকি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এক ধাক্কায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট না দিয়ে কার্যত ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ ফ্যাক্টরকে সরাসরি মোকাবিলার কৌশল নিয়েছে দল। মোট সিটিং এমএলএদের প্রায় ৩৩ শতাংশকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, জেতার সমীকরণই শেষ কথা।
টিকিট না পাওয়া উল্লেখযোগ্য বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন শিবপুরের মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকোর বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্র, রত্না দে নাগ, পরেশ পাল প্রমুখ। তবে এই রদবদল যে আকস্মিক নয়, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রের দাবি, স্থানীয় স্তরে জমে ওঠা ক্ষোভ এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ। অর্থাৎ, এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী থাকলেও পুরনো মুখ রেখে ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দল, বরং প্রার্থী (TMC Candidate List) বদলে নির্বাচনী সমীকরণকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আসন বদল ও নতুন মুখ
শুধু টিকিট কাটা নয়, প্রার্থী তালিকায় (TMC Candidate List) কৌশলগত রদবদলের স্পষ্ট ছাপ রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করে দল বুঝিয়ে দিল, এবার নির্বাচন লড়া হবে সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণে।
উদাহরণ হিসেবে, ডেবরার হুমায়ুন কবীর-কে সরিয়ে ডোমকলে পাঠানো হয়েছে, আর ডেবরায় প্রার্থী করা হয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। বেহালা পূর্বের রত্না চট্টোপাধ্যায়-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। একইভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-কে খড়দা থেকে এনে বালিগঞ্জে দাঁড় করানো হয়েছে এবং সওকত মোল্লা-কে ক্যানিংয়ের বদলে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়েছে।
পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রে আনা হয়েছে নতুন মুখ—চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, উলুবেড়িয়া পূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, খড়দায় দেবদীপ পুরোহিত, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ, নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, বেহালা পূর্বে শুভাশিস চক্রবর্তী এবং মহেশতলায় শুভাশিস দাস-এর মতো নাম তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।


