কলকাতা: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আঁচ পশ্চিমবঙ্গের মন্দিরের রান্নাঘরে! জ্বালানির ঘাটতিতে (Fuel Crisis) দেশজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব! গৃহিণীর রান্নাঘর থেকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এমনকি মিড ডে মিলে পর্যন্ত জ্বালানি সংকটের প্রভাব! এই আবহে শুরু হয়েছে একাধিক মন্দিরের মেনু বদল। কোথাও আবার ভোগ বিতরণ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে ভোগ বিতরণ কমানোর পর এবার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরেও ধরা পড়ল একই চিত্র। সাধারণত, দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হয়। কিন্তু এলপিজি গ্যাসের সংকটে (Fuel Crisis) গড়ে ৭৫০ লোকের খাবারের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Temple) কর্তৃপক্ষ।
ইস্কন মন্দিরের মেনু বদল
পাশাপাশি, জ্বালানির অপ্রতুলতার জেরে মেনুতে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে কলকাতার ইস্কন মন্দির (ISKCON)। দিনে তিনবেলা ভিন্ন ধরণের ভোগ বিতরণের পরিবর্তে তিনবেলাই খিচুড়ি ভোগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতার কলকাতার আলবার্ট রোডের ইস্কন (ISKCON) মন্দির সূত্রে খবর, তাঁদের কাছে আগামী দু-তিন দিনের গ্যাস মজুত আছে। তাই নতুন স্টক না আসা পর্যন্ত শুধুমাত্র খিচুড়ি ভোগ ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছেন মন্দিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস।
শুধু তাই নয়, তাঁর আশঙ্কা, নতুন স্টক না এলে ভক্তদের তিনবেলা ভোগ দেওয়াও বন্ধ করতে হতে পারে। তবে মায়াপুর ইস্কনে যেহেতু ৯০% রান্না কাঠের জ্বালে হয়, তাই সেখানে আপাতত ভোগে কোনও কাটছাঁট করা হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
মিড ডে মিলের মেনুতে কাটছাঁট
উল্লেখ্য, স্কুলের মিড ডে মিলের মেনু থেকে হাসপাতাল, ছাত্রছাত্রীদের মেস সর্বত্রই মেনুতে কাটছাঁট করতে হয়েছে। স্কুলে সম্পূর্ণ খাবারের পরিবর্তে ডিম সেদ্ধ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, কলকাতার একটি ছাত্রাবাসের আবাসিক জানিয়েছেন, মেসের মেনুতে কাটছাঁটের জেরে অনেক ছাত্র একবেলা খেয়ে থাকছেন। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল, রেলের রান্নাঘরেও। জ্বালানি সংকটের জন্য কেন্দ্র সরকারকে বিঁধে আগামী সোমবার রাজপথে মিওছিল করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ করতেও তৎপর রয়েছে প্রশাসন।


