কলকাতা: আর এন রবির (R.N Ravi) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতই নিয়ে জল্পনার যবনিকা পতন ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গত ৫ মার্চ সিভি আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফা নিয়ে শুধু বিস্ময় প্রকাশই নয়, এমনকি এর নেপথ্যের আসল কারণ ‘উদ্ঘাটন’ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই তামিলনাড়ু থেকে আর এন রবিকে ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিযুক্ত করা নিয়ে ব্যাপক জল্পনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতিক্রিয়া কার্যত ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। সেইসঙ্গে প্রোটোকল ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না-ও করতে পারেন বলেও মনে করছিল বিভিন্ন মহল।
তবে বৃহস্পতিবার কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিমান বসুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আর এন রবিকে (R.N Ravi) শপথবাক্য পাঠ করানোর পর রাজনৈতিক দূরত্ব সরিয়ে রেখে প্রোটকলের সেতুবন্ধন করলেন মমতা, বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্য নয়, বরং, আর এন রবিকে এদিন রাজ্যের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শেষে রাজ্যপাল আর এন রবির স্ত্রী-য়ের কাঁধে হাত রেখে ছবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে রাজ্যপাল ও তাঁর স্ত্রীকে বিশ্ববাংলার উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজ্যপালকে বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি ও উৎসবগুলো কাছ থেকে দেখবেন।” সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “বাংলার মানুষ তাঁকেই ভালোবাসে, যিনি বাংলাকে ভালোবাসেন।” যার জবাবে রাজ্যপাল আরএন রবি বলেন, “হ্যাঁ, আমি জানি, বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।”
মমতার এই মন্তব্য আপাতদৃষ্টিতে সৌজন্যমূলক হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে তিনি রাজ্যপালকে একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির ‘ছাপমারা ক্যাডার’
প্রসঙ্গত, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ এবং তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা আর এন রবিকে বঙ্গের রাজ্যপাল করার পেছনে কেন্দ্ররে মতলব রয়েছে, এমনটাই দাবী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের ঘোষণার পরেই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার রবিকে (R.N Ravi) বিজেপির ‘ছাপমারা ক্যাডার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রোটোকল বজায় রেখে উপস্থিত হলেও ‘বাঙালি অস্মিতা’ নিয়ে রাজ্যপালকে ঠারেঠোরে রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


