Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে রাজ্য জুড়েই চলছে বিতর্ক। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই জটিলতা দ্রুত মেটাতে এবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India)।
ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ অনুযায়ী , বিচারিক আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলা ওঠার পরই এই নির্দেশ আসে। অভিযোগ উঠেছিল, বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনে। তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে মামলা প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন। তাঁর মন্তব্য ছিল, বিচারকদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলা উচিত নয় যাতে তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আপিলের পথ খুঁজছে কমিশন
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারিক আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে SIR প্রক্রিয়া চলছে। তবু প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারিক আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করা যাবে, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India)। নির্দেশ অনুযায়ী, অনিষ্পন্ন ভোটার সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল এই ট্রাইব্যুনালেই জমা দিতে হবে।
এই নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়েই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, বৈঠকে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
SLBC কর্তাদের দিল্লিতে তলব
এদিকে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটির (SLBC) শীর্ষ কর্তাদের দিল্লিতে তলব করেছে। সম্প্রতি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই তাঁদের সঙ্গে আবার বৈঠক করতে পারে কমিশন।
ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে আভাস
রাজনৈতিক মহলের একাংশে জল্পনা ছিল, ভোটার তালিকার জটিলতার কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ঘোষণা নাও হতে পারে বলে আলোচনা চলছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা নিয়েও কিছু মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জল্পনার ভিত্তি নেই। কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতেও একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবার, ১৬ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করতে পারেন। ভোটের দফা নিয়েও এবার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে আট দফা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে কমিশনের অভ্যন্তরে এখন মনে করা হচ্ছে, এত দফায় ভোটের প্রয়োজন নেই। সেই কারণে এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ১৬ মার্চ নির্বাচন ঘোষণা হলে প্রথম দফার ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম দফার ভোট হতে পারে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফলপ্রকাশ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


