Aaj India Desk, কলকাতা : এখনও বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাজ্য জুড়ে নির্বাচন প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ (Police Training) শুরু করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর।
শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে ট্রেনিং
বুধবার প্রথম দফায় জেলা পর্যায়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (Police Training) অনুষ্ঠিত হয়। আগামী দিনে এই প্রশিক্ষণ ধাপে ধাপে নিম্নস্তরের পুলিশ কর্মীদের মধ্যেও পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকেও আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রত্যেককে সতর্ক করা হয়েছে যে ভোটের সময় কোনও ধরনের অশান্তি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণের নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সেই কেন্দ্রে পুনর্ভোটের বা রি-পোলের ব্যবস্থা করা হবে। কমিশন ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব স্তরের কর্মীদের উপর নজর রাখছে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভোটারের তালিকা নিয়ে হাইকোর্টে বৈঠক
এদিকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের পর ধাপে ধাপে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের।
সূত্রের খবর, সম্পূরক ভোটার তালিকা কীভাবে এবং কত সময়ের ব্যবধানে প্রকাশ করা হবে তা নিয়েও আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে, যাতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন করে আপিল করার সুযোগ পান।
নজরদারিতে জিপিএস ও বডি ক্যামেরা
নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও জোরদার করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ মার্চের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বুথ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরিদর্শন শেষ করতে বলা হয়েছে। ভোটের আগে এলাকায় আস্থা তৈরি করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য গাড়িতে জিপিএস এবং ইউনিফর্মে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে ৬০ লক্ষ ভোটারের সম্পূরক তালিকা কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ীই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


