24.2 C
Kolkata
Thursday, March 12, 2026
spot_img

অনাস্থার সুর তুলেও মিলল না সংখ্যাগরিষ্ঠতা , খারিজ নো কনফিডেন্স মোশন !

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : মঙ্গলবার লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল তৃনমূল কংগ্রেস। তবে বুধবারই স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা সেই অনাস্থা প্রস্তাব (No Confidence Motion) কণ্ঠভোটে খারিজ হয়ে যায়। দুই দিন ধরে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোলের পর প্রস্তাবটি ভোটে তোলা হলেও তা পরাজিত হয়।

লোকসভায় স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন বিজেপির প্রবীণ সাংসদ জগদম্বিকা পাল। দীর্ঘ আলোচনার শেষে তিনি অনাস্থা প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে তোলেন। সেই ভোটাভুটিতে বিরোধীদের প্রস্তাব পরাজিত হয়।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, স্পিকার সংসদের কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বিরোধীদের বক্তব্য প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই বিষয়টি সামনে আনতেই তারা অনাস্থা প্রস্তাব আনে বলে দাবি করেন বিরোধী নেতারা।

বিতর্কে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, স্পিকার সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা একটি নিরপেক্ষ পদ। তাঁর কথায়, “স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলা।”

তবে শাহের বক্তব্য ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়। আলোচনার সময় তিনি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে উল্লেখ করে বলেন, “আপনাদের শীর্ষ নেতা সংসদে এসে প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন, চোখ টিপে ইঙ্গিত করেন, এটা কেমন আচরণ?” এই মন্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী সদস্যরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন এবং শাহের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর কোনো মন্তব্য যদি সংসদীয় আচরণের পরিপন্থী হয়, তা রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা যেতে পারে।

এর আগে অনাস্থা প্রস্তাব (No Confidence Motion) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে তাঁকে বারবার কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলতে গেলেই তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

বিজেপির পক্ষ থেকে প্রাক্তন আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ বলেন, এই অনাস্থা প্রস্তাবের (No Confidence Motion) কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, এটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।

বিতর্কে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিরোধী সাংসদও সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয় এবং আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় না।

সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অত্যন্ত বিরল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এমন প্রস্তাব মাত্র কয়েকবারই আনা হয়েছে।

কণ্ঠভোটে প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পরও লোকসভায় হট্টগোল চলতে থাকে। পরে অধিবেশন মুলতবি করে দেওয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার আবার লোকসভা বসবে এবং স্পিকার ওম বিড়লা সংসদের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন