Aaj India Desk, উত্তরবঙ্গ : পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই SIR ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এর মধ্যেই উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে বিজেপি বিধায়কের বাড়ি থেকে CAA নাগরিকত্ব (Citizenship) শংসাপত্র বিতরণ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ২০০০ সালে ভারতে আসা চারজন ব্যক্তি সম্প্রতি CAAর আওতায় নাগরিকত্বের (Citizenship) শংসাপত্র পেয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেই শংসাপত্র কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁওয়ের বাড়িতে পৌঁছয় এবং সেখান থেকেই তা আবেদনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, CAAর জন্য আবেদনকারীদের আবেদন মঞ্জুর হলে প্রথমে ইমেলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কাছেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই শংসাপত্র কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতা ও বিধায়কের কাছে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিজেপি এই ধরনের পদক্ষেপ করছে। দলের নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক বলেন,
“অনেক মানুষকে চাপ দিয়ে এই আবেদন করানো হয়েছে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শংসাপত্র কীভাবে বিজেপি নেতাদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিজেপি ঘুরপথে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে না।”
অন্যদিকে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। তাঁর দাবি, যেখানে যেখানে CAA ক্যাম্প হয়েছে, সেখানে শংসাপত্র পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, “আমার বাড়িতেও একটি ক্যাম্প হয়েছিল। সেই কারণেই কয়েকটি শংসাপত্র এখানে এসেছে। চারজন আবেদনকারীর শংসাপত্র আমি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। অন্যান্য কেন্দ্রেও শংসাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলি বিতরণ করা হবে।” একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের একটি অংশের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নিজেই সমস্যায় পড়েছে। আগামী দিনে তারা আরও সমস্যায় পড়বে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া নাগরিকত্বের (Citizenship) শংসাপত্র কীভাবে রাজনৈতিক নেতার হাতে এল, তা নিয়েই এখন মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


