Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের দিন ঘোষণার আর বেশি দেরি নেই, ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে ভোটের প্রস্তুতি। কিন্তু তার মাঝেই অনিশ্চয়তায় ঘেরা বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর সম্ভাব্য জোট। এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে আসন সমঝোতা বা জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা সামনে আসেনি, ফলে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
এর আগে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আইএসএফ (ISF)-ই ছিল বামেদের শেষ সঙ্গী। গত কয়েক মাসে নওশাদ সিদ্দিকীর (Nawsad Siddique) সঙ্গে বাম নেতৃত্বের একাধিক বৈঠকও হয়েছে। বারবার শোনা গিয়েছে, মূল জট আসন ভাগাভাগি নিয়েই। তবে এত আলোচনা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত জোট নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্রের দাবি, জোট গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার আসন সমঝোতা। এই দুই জেলায় আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও আপস করতে রাজি নয় নওশাদ সিদ্দিকীর (Nawsad Siddique) দল। বাম নেতৃত্বকে আইএসএফ (ISF) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুই ২৪ পরগনায় তারা যে আসনগুলির দাবি তুলেছে, সেখান থেকে একচুলও পিছোবে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জোটের সবচেয়ে বড় জট তৈরি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার আসন সংখ্যা নিয়েই। এই জেলায় আইএসএফ (ISF) ৮টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি তুলেছে। তবে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে পাঁচটির বেশি আসন ছাড়তে অনীহা দেখানো হয়েছে। ফলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও, নিজেদের দাবিতে এখনও অনড় অবস্থানেই রয়েছে নওশাদ সিদ্দিকীর (Nawsad Siddique) দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আইএসএফের (ISF) এই অনড় অবস্থানের ফলে জোটের সমীকরণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে কোনও সমঝোতার পথ বের হয় কি না, নাকি আইএসএফ(ISF) শেষ পর্যন্ত একাই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয়।


