Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে (Parivartan Yatra) কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত শহরে উত্তেজনা ছড়ায়। যাত্রার সময় বিজেপি কর্মীদের একাংশ তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে মারধর করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রথ বনগা, নদিয়া ও কাঁচরাপাড়া হয়ে বারাসতের নপাড়া হাউজিং মোড়ে পৌঁছায়। রথে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার।
এরপর যাত্রার রথ হেলাবটতলা মোড়ে পৌঁছালে জাতীয় সড়ক ১২-এর উপর যানজট তৈরি হয়। ওই সময় ব্যারাকপুর রোডের সংযোগস্থলে তৃণমূল কর্মীরাও জড়ো হন। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের শেষ দিকে বিজেপি কর্মীদের একাংশ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন।
এরই মধ্যে অভিযোগ, কয়েকজন বিজেপি কর্মী রাস্তা পেরিয়ে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসে হামলা চালায়। ব্যারিকেড উপেক্ষা করে তারা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক রাস্তায় ফেলে দেয় এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। ঘটনায় দুই তৃণমূল কাউন্সিলর ও কয়েকজন মহিলা কর্মী দেওয়াল টপকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
বারাসত পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিল্পী দাস অভিযোগ করেন, “রান্নার গ্যাস ও সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। তখনই বিজেপির দুষ্কৃতীরা এসে হামলা চালায়।”
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, “তৃণমূল কর্মীদের উস্কানির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বারাসত থেকে যশোর রোড ধরে হাবড়া পর্যন্ত বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার (Parivartan Yatra) কর্মসূচি রয়েছে।
এদিকে গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার মঞ্চ খুলে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাস্তা আটকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সেদিনই বকখালি থেকে বিজেপির পরিবর্তন রথযাত্রা (Parivartan Yatra) শুরু করেন বিপ্লব দেব। বকখালি থেকে যাত্রা শুরু করে রথটি সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ পাথরপ্রতিমা কলেজ মাঠে পৌঁছায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলা এবং প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনের বিকল্প নেই।”


