Aaj India Desk, দিসপুর : শুক্রবার সকালেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাডার থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল অসমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। (Sukhoi crash)
বিমানটি ৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসমের জোরহাট থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে উড়েছিল। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪২ মিনিট নাগাদ রাডার ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোয়লের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একাধিক তল্লাশির পর শেষ পর্যন্ত আজ সকালে কার্বি আংলং জেলার একটি দুর্গম এলাকায় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়।
ইজেক্ট করতে পারেননি দুই পাইলট
ভারতীয় বায়ুসেনার এই সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান (Sukhoi crash) ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুর্গাকর নামক দুই পাইলটের। বায়ুসেনা সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় পাইলটরা ইজেক্ট করতে পারেননি। ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহত দুই পাইলটের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম শক্তি
সুখোই সু-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। ১৯৯৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ভারতীয় চাহিদা অনুযায়ী ‘এমকেআই’ সংস্করণ তৈরি হয়। বিশেষ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিমান থেকেই সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র BrahMos উৎক্ষেপণ করা যায়। এছাড়াও এতে যুক্ত করা হয়েছে ভারতের নিজস্ব তৈরি অস্ত্র মিসাইল।
দুর্ঘটনার পর উঠছে বড় প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের বিমান দুর্ঘটনা সামনে আসায় দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরক্ষা মহলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসেনি, তবু প্রতিটি সামরিক দুর্ঘটনার (Sukhoi crash) পর এই ধরনের প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষত যেখানে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ইতিহাসে অতীতে বিতর্কের নজির রয়েছে সেখানে এই ধরনের প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই কোর্ট অফ ইনকোয়ারি শুরু করেছে। সেই রিপোর্ট সামনে আসার পরই পরিষ্কার হবে এই দুর্ঘটনার পেছনে ঠিক কী কারণ কাজ করেছে।


