Aaj India desk, দুর্গাপুর: একটি পোস্টার ছেঁড়া—আর তাতেই কি এত উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় রাজনৈতিক বার্তা? এই প্রশ্ন ঘিরেই বুধবার সকাল থেকে সরগরম হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের ইন্দো-আমেরিকান মোড় এলাকা। বিজেপির (BJP) ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে কেন্দ্র করে শিল্পশহর দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়াকে ঘিরেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদেই পথে নামেন বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকেরা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—
পোস্টার ছেঁড়া কি নিছকই দুষ্টুমি, নাকি এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? কর্মীদের দাবি, ‘পরিবর্তন যাত্রা’র প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে ইন্দো-আমেরিকান মোড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) পোস্টার লাগানো হয়েছিল কিন্তু রাতের অন্ধকারেই সেই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। বলা হয়ে-
“রাজ্যে পরিবর্তনের বার্তা দিতে আমরা পোস্টার লাগিয়েছিলাম। কিন্তু গভীর রাতে সেগুলো ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছি,”—অভিযোগ এক বিজেপি (BJP) কর্মীর।
আরও একটি প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে—
যখন সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তখন এখনও কেন ধরা পড়ল না দোষীরা? এই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকেই ইন্দো-আমেরিকান মোড়ে অবরোধ শুরু করেন বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকেরা। ফলে কিছু সময়ের জন্য ওই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল কার্যত থমকে যায়। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই পড়েন সমস্যায়। তবে জানানো হয়ে-
“এটা শুধু একটি পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা নয়, এটা গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। যারা এই কাজ করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব,”— আরেক হুঁশিয়ারি বিজেপির (BJP) এক স্থানীয় নেতার বক্তব্য।
তবে এখানেই থামছে না প্রশ্ন—
এটি কি শুধুই স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক সংঘাত, নাকি ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে ঘিরে বড় কোনও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত? জানা গেছে, ঘটনার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে যে একটা পোস্টার ছেঁড়া থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন দুর্গাপুরের রাজনীতিতে (BJP) নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের পর সামনে আসে ঠিক কোন সত্য—আর সেই সত্য কি নতুন করে রাজনৈতিক তরজা বাড়াবে?


