হাওড়া: হাওড়ার পিলখানায় প্রমোটার (Promoter Murder) খুনের ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত হারুন শেখ ও রোহিত হোসেন। হত্যাকান্ডের ৮ দিনের মাথায় সিআইডি এবং হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ দলের হাতে ধরা পড়ল দুই মূল অভিযুক্ত। দিল্লি থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে বৃহস্পতিবারই হাওড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে, বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পর হাওড়া থেকে কলকাতার জোড়াসাঁকো হয়ে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। সেখানেই আত্মগোপন করে ছিল দু’জন। এর আগে পিলখানা গুলি-কাণ্ডে এই দুই অভিযুক্তের চার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে রোহিত ও হারুন পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লুকিয়ে ছিল।
শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিআইডি এবং হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই ধরা পড়ে এই দুই মূল অভিযুক্ত। তাদের গ্রেফতারের পর পুরো খুনকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। রোহিত এবং হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কারোর হাত রয়েছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকাশ্যে গুলিতে ঝাঁজরা প্রমোটার
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কাকভোরে হাওড়ার গোলবাড়ির পিলখানা এলাকায় প্রোমোটার (Promoter Murder) শফিক খান (২৭)-এর ওপর প্রায় ছয় রাউন্ড গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতি। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে যুবককে গুলি করে ঝাঁজরা করে দেওয়ার ভিডিও ধরা পরে সিসিটিভি ক্যামেরায়। নির্বাচনের ঠিক আগে প্রপকাশ্যে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে শাসকদলের যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি। ঘটনার দিন দফায় দফায় হাওড়ায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। হাওড়া উত্তরের হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পেছনে হারুন খানের ঘোরার ভিডিও পোষ্ট করে বিজেপি।
সেইসঙ্গে তৃণমূলের কর্মসূচীতে হারুনের ভিডিও ভাইরাল হয়। শাসকদল দুষ্কৃতিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং দুষ্কৃতিরাজের বিরুদ্ধে এদিন গোলাবাড়ি থানা ঘেরাওয়ের ডাক দেয় বিজেপি (BJP)। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার বাঁধে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। অবশেষে ৮ দিনের মাথায় হারুন ও রোহিতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হল পুলিশ।


