Aaj India Desk, নয়াদিল্লি : দীর্ঘ আইনি লড়াই, রাজনৈতিক সংঘাত এবং একাধিক শুনানির পর অবশেষে দিল্লির বহুচর্চিত আবগারি নীতি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয় ট্রায়াল কোর্ট। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরভিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে (Manish Sisodia) খালাস দেওয়া হয়। তবে সেই রায়ের পরেই নতুন আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলো CBI।
শুক্রবার আদালত জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারিক পরীক্ষায় টেকেনি। এই সিদ্ধান্তকে “সত্যের জয়” বলে দাবি করে আম আদমি পার্টি (AAP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। আদালতের রায়ে তা স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি AAP সাংসদ সঞ্জয় সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, আদালতের রায়ে বিজেপির অভিযোগের ভিত্তি ভেঙে পড়েছে।
এরই মধ্যে CBI ক্ষোভ সহকারে জানায়, ট্রায়াল কোর্টের রায়ে তদন্তের একাধিক দিক ‘উপেক্ষিত’ বা ‘যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি’ বলে তাদের মত। সেই কারণেই দ্রুত দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করবে তারা। সংস্থার মতে, মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উচ্চতর আদালতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। CBI এর একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে হাইকোর্টে দ্রুত আপিল দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আবার অন্যদিকে CBI এরই এক তদন্তকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ বিশেষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই শুধু এক ‘অ্যাপ্রুভার’-এর বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তদন্তকারী CBI আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কোর্টে উপেক্ষা করেছেন। বিচারকের মতে, অভিযোগগুলি আইনি পরীক্ষায় টিকবে না তা জানা সত্ত্বেও মামলা চালানো হয়েছে।
দিল্লির আবগারি নীতি মামলা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন চলছিল। আজকের খালাসের রায়ে তা সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও, হাইকোর্টে আপিলের সিদ্ধান্তে লড়াই যে এখনও শেষ নয়, তা স্পষ্ট।


