মুখ্যমন্ত্রী: খুলল না পুলিশি ব্যারিকেড! এদিকে ধর্মতলায় ডিএ (DA) আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ-অবস্থানে কাজের দিনে ব্যাপক যাত্রী ভোগান্তি! যাত্রীদের কথা ভেবে বাধ্য হয়ে নরম হতে হল আন্দোলনকারীদের। বিকেল ৪ টেয় সাংবাদিক বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচী জানাবেন তাঁরা। তার আগে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে বললেন, “আজকের আন্দোলনে জেলা থেকে বহু পেনশনভোগী, বয়োজ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মচারীরা এসেছিলেন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিলেও কালীঘাট অভিযানের জন্য ব্যারিকেড খুলল না পুলিশ।”
এরপর মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তিনি বলেন, “উনি সময় নষ্ট করছেন। মার্চ থেকেই রাজ্যে ভোটের দামাম বেজে যাবে। আর মানুষ ভুলে যাবেন ভাবছেন। কিন্তু আজকের এই আন্দোলনকে আমরা আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাব। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানা পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন”। ভাস্করের পাশাপাশি এক আন্দোলনকারী বলেন, “আজকের বিক্ষোভ-অবস্থান ছিল সেমিফাইনাল। আগামী ১৩ নারচ ফাইনাল দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী।”
রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক
বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবীতে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিল আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারী সংগঠন। সেইসঙ্গে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন, এই ধর্মঘটের প্রভাব এত বড় হবে, যে মুখ্যমন্ত্রী মনে রাখবেন। ১০ বছর ধরে হকের পাওনার জন্য আন্দোলন করে আসছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন।
দু-বার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইবুনাল, দুবার হাইকোর্ট এবং একবার সুপ্রিম কোর্টে হেরেও মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর নামগন্ধ নেই রাজ্য সরকারের, এই অভিযোগে সোচ্চার রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একাংশ। ২০১৬ সাল থেকে লক্ষাধিক বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবীতে দিন গুনছেন তাঁরা। এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে! বলছেন, আন্দোলনকারীরা।
আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫% মেটানোর নির্দেশ
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বয়েকা মহার্ঘ ভাতার (DA) ২৫% ‘অবিলম্বে’ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ মেটাতে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত। তবে আদালত অবমাননা করে হলেও ডিএ মেটাবেন না বলে পণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কটাক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের।


