গুয়াহাটি: ২০২৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এমনই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে পড়শি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজুবুর রহমানের মূর্তি ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর বসতভিটে ধানমন্ডি-৩২! এবার বাংলাদেশের সেই লজ্জাজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিমন্তের (Himanta Biswa Sarma) অসমে! সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে জওহরলাল নেহেরুর (Jawaharlal Neheru) একটি মূর্তি! যা নিয়ে তোপ দেগেছে কংগ্রেস।
বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) প্রশাসনকে তুলোধোনা করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, অসমের কাচার জেলার নেহেরু কলেজের সামনে ২০০০ সালে ১০ ফুট উচতার নেহেরুর ওই বিশাল নেহেরু মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণকারীরা মূর্তিটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
কংগ্রেস (Congress) নেতা প্রদীপ কুমার দে-র অভিযোগ, প্রথমে প্রশাসনের তরফে ওই বিশালাকৃতি মূর্তিটি আপনা থেকেই পড়ে গিয়েছে বলা হলেও, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়েছে, একদল দুষ্কৃতি বুলডোজারের সাহায্যে মূর্তিটি উপড়ে ফেলছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় FIR দায়ের করেছে কংগ্রেস।
পুলিশের বক্তব্য
জানা গিয়েছে, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে বুলডোজারটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্থানীয় থানার অফিসার-ইন-চার্জ শঙ্কর দয়াল জানিয়েছেন, যে তাঁরা কোনও প্রত্যক্ষদর্শীকে পাননি। তবে, মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে যে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত বুলডোজার দিয়ে মূর্তিটি ভাঙছে।
“অনৈতিক উপায়ে গণতান্ত্রিক ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা”
অসম কংগ্রেস (Congress) প্রেসিডেন্ট গৌরব গগৈ বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি মূর্তি ভাঙা নয়, এটি আধুনিক ভারতের ভিত্তি নির্মাতা এবং বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী জওহরলাল নেহরু (Jawaharlal Neheru) -র উত্তরাধিকারকে অপমান করা।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে অনৈতিক উপায়ে গণতান্ত্রিক ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনার পর সরকারের ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন কংগ্রেস নেতা।


