কলকাতা: সেবা তীর্থে মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়ে প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকেই বদলে গেল কেরলের নাম। মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ বৈঠকে কেরলের নাম ‘কেরালাম’ করাতেই সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। আর এই ঘটনার পরেই সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বললেন, বিজেপি এবং সিপিএমের যোগ বা ‘সেটিং’ এখন লিখিত! অথচ বাংলার দাবী মানা হচ্ছে না!
বস্তুত, লোকসভায় বলার সিরিয়াল নম্বর হোক বা বাংলার মানুষের সর্বভারতীয় কোনও নিবন্ধে নাম নথিভুক্ত হোক, পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজি অক্ষর ‘W’ দিয়ে শুরু হওয়ায় সমস্যার কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি লোকসভায় ‘W’-এর জন্য তাঁর সাংসদরা সম্পূর্ণ কথা বলার অনেক্ষেত্রেই সুযোগ পান না বলেও অভিযোগ জানিয়ে আসছেন তিনি। এদিকে ভোটের আগে কেরলের নাম পরিবর্তনে কেন্দ্র সরকার সবুজ সংকেত দিতেই ক্ষোভে ফুসে উঠলেন মমতা।
“বিধানসভায় দু-তিনবার পাশ! আপনারা দেননি”
এদিনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগের সুরে বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন, সব ভেবে রাজ্যের নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু-তিনবার পাশও হয়েছিল। কিন্তু আপনারা করতে দেননি!” শুধু তাই নয়, এদিন মমতা সাফ হুংকার দিয়েছেন যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংলা করিয়েই ছাড়বেন!
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দাবীর প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রকের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নাম প্রায় এক হয়ে যাবে। তাই প্রস্তাবটিকে খারিজ করা না হলেও এখনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
নাম পরিবর্তন মুখের কথা নয়
উল্লেখ্য, কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন একটি যথেষ্ট দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার প্রস্তাব পাঠায়। এরপর কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ এবং গোয়েন্দা দফতরের মতো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মতামতও নেওয়া হয়।
সমস্ত দিক পর্যালোচনার পর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তা বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হয়। সংসদে বিলটি পাশ হলে চূড়ান্ত সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।


