Aaj India Desk, মালদা : ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলাভাষী শ্রমিকদের (Bengali Workers) উপর হামলার অভিযোগ আজ আর নতুন নয়। তবে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় মালদার পরিযায়ী শ্রমিক সৈয়দ শেখের উপর সাম্প্রতিক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আবারও ভাষাভিত্তিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মালদার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শেখ (৩৭) প্রায় নয় বছর ধরে মধ্যপ্রদেশে কাপড়ের ব্যবসা করছিলেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাগর জেলার সমনাপুর গ্রামে তাঁকে ঘিরে ধরে লুটপাট ও একাধিকবার ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি সাগরের বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তাঁর পরিবারের দাবি, সম্প্রতি বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল। যদিও পুলিশ এখনও হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সামাজিক পরিচয়ের রাজনীতি
এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণত দুটি স্তর তৈরি হয়।একটি আইনগত তদন্তের, অন্যটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যার। আক্রান্তের পরিবার ভাষাভিত্তিক আক্রমণের অভিযোগ তুললেও, প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয় না। তবে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত সামনে আসে।
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বিষয়টিকে ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্ন হিসেবে তুলেছেন। পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ও তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির নির্দেশে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আবার তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, “কখনও ধর্ম, কখনও ভাষা। ইচ্ছাকৃতভাবে এই ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা না বৃহত্তর প্রবণতা?
সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ়, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যেই বাংলাভাষী শ্রমিকদের (Bengali Workers) উপর হামলা বা হেনস্তার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ আলাদা। কোথাও শ্রমিক বিবাদ, কোথাও পরিচয় যাচাই, কোথাও স্থানীয় উত্তেজনা। সব ক্ষেত্রেই ভাষাই একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
ভাষা ও পরিচয় ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সংবেদনশীল বিষয়। প্রায় প্রতিটি এমন ঘটনার পরই রাজনৈতিক বিবাদ তীব্র আকার নেয় এবং বিষয়টি দ্রুত বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে এই ঘটনাগুলিকে কেবল রাজনৈতিক অবস্থান জোরদার করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নাকি বাস্তব সমস্যার সমাধানের বদলে তা জনমত প্রভাবিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠছে ?


