Aaj India Desk, কলকাতা : বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পনীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল বাম সরকারের শিল্পনীতি। সেই নীতিতে কোনও সমস্যা থাকলে তার দায়ও জ্যোতি বসুরই বলে মন্তব্য করলেন বামফ্রন্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu)। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
বিমান বসু (Biman Basu) বলেন, “কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই বামফ্রন্ট সরকারের শিল্পনীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ঘোষণা করা হয়েছে। সেই শিল্পনীতি নিয়ে যদি কোনও প্রবলেম হয়ে থাকে, জ্যোতি বসুরই হয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই শিল্পনীতি কার্যকর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।” অর্থাৎ, শিল্পনীতি তৈরির ক্ষেত্রে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বের কথা তুলে ধরলেও, সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যে পরবর্তী সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে ছিল, তা স্পষ্ট করেছেন বিমান বসু।
উল্লেখ্য, বাম আমলে শিল্পায়নের উদ্যোগ ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি, কৃষিজমির ব্যবহার এবং স্থানীয় মানুষের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ১৮৯৪ সালের ব্রিটিশ আমলের জমি অধিগ্রহণ আইন এবং তৎকালীন প্রশাসনিক পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। আন্দোলনের জেরে রাজ্যে শিল্পায়নের পরিবেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।বর্তমানে সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ এবং শুভেন্দু অধিকারী সরকারের শিল্পনীতি ঘোষণার পর সেই পুরনো বিতর্কই আবার সামনে এসেছে।
বিমান বসুর (Biman Basu) মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাম আমলের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, শিল্পনীতি নিয়ে বামফ্রন্টের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। এমনকী, সরকারের অন্দরেও কোনও মতভেদ ছিল না। অসীম দাশগুপ্তের কথায়, “শিল্পনীতি নিয়ে বামেদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। সরকারের মধ্যে তো কোনও মতভেদ ছিলই না।” তিনি আরও জানান, বামেদের শিল্পনীতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকেই।
বিমান বসুর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা হচ্ছে বিলম্বিত বোধোদয়। কিন্তু এই কথাটা বলার সাহস দেখিয়েছেন উনি, তার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
সব মিলিয়ে, বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে বিমান বসুর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিল্পনীতি তৈরির কৃতিত্ব ও দায় জ্যোতি বসুর নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে বিমান বসু কি পুরনো বিতর্কের নতুন দিক সামনে আনলেন? অন্যদিকে, অসীম দাশগুপ্তের বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের সম্ভাবনা কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে।সিঙ্গুরে শিল্পায়নের নতুন উদ্যোগের আবহে বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে এই চাপানউতোর আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।


