কলকাতা: বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে বাংলার রাজনৈতিক পারদ! মুর্শিদাবাদে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর তাঁর সেই হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করেই এবার সরাসরি সংঘাতে বিজেপি। হুমায়ুনকে আইনের কথা মনে করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের আক্রমণ আরও তীব্র। হুমায়ুনকে কার্যত রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, এই ধরনের মানুষকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা উচিত!
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। বেলডাঙা থেকে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে ঘোষণা করেন, বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা নিজেদের কবজায় রাখার কথাও বলেন তিনি। প্রশাসনকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, পুলিশের ক্ষমতা থাকলে যেন আটকে দেখায়!
হুমায়ুনের এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো কাজ আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই বিধায়কের উচিত, এ ধরনের আইন ভঙ্গের ভাবনা থেকে সরে আসা।
তবে শুধু আইন নয়, বাবরি মসজিদের নাম নিয়েও মন্তব্য করেছেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, বাবরের নাম বাদ দিয়ে অন্য কারও নামে মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সুকান্তর তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক সুর শংকর ঘোষের। হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের মানুষকে আস্তাকুঁড়ে বা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা উচিত। এমনকি হুমায়ুন সম্পর্কে মন্তব্য করতেও তাঁর ইচ্ছে করে না বলে জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী।
একদিকে জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা রাজনৈতিক আক্রমণ, সব মিলিয়ে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নির্ধারিত দিনে সত্যিই কি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের পথে হাঁটবেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)? নাকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বদলাবে পরিস্থিতি? সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।


