Aaj India Desk, কলকাতা : চোরবাগানের পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর এবার কালীপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন।কালীপুজোয় নৈহাটির (Naihati Kali Puja 2026) বড়মার দর্শন ঘিরে প্রতি বছরই ভক্তদের ঢল নামে। দূরদূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মন্দিরে আসেন। কেউ সাধারণ দর্শনে, কেউ আবার মানত পূরণ করতে দণ্ডী কেটে পুজো দিতে আসেন। ফলে ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর এবার সেই ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার নৈহাটির (Naihati Kali Puja 2026) বড়মার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুজো কমিটির সদস্য, মহকুমা শাসক, ইও এবং পুলিশ আধিকারিকরা।পরিদর্শনের পর মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিক করা হয়, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য একটি রাস্তা এবং বেরনোর জন্য অন্য রাস্তা নির্দিষ্ট থাকবে। বিশেষ করে সরু রাস্তায় যাতে দু’দিক থেকে আসা মানুষের ভিড় মুখোমুখি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি এবার বড়মার দর্শনে কোনও বিশেষ ভিআইপি প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। সাধারণ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে দর্শনের সুযোগ দেওয়াই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। পুজোর দিনগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। স্নান সেরে যাঁরা মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন, তাঁদের যাতায়াতের বিষয়টিও নজরে রাখবে প্রশাসন। (Naihati Kali Puja 2026)
শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় সামাল দিতে এনডিআরএফ মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।
২০২৬ সালে ১০৩ বছরে পা দিচ্ছে নৈহাটির বড়মার পুজো। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নৈহাটির বড়মার পুজোয় প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশিকা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।


