Aaj lndia Desk, কলকাতা: কলকাতার (Kolkata) অন্যতম ব্যস্ত উড়ালপুল মা ফ্লাইওভারে (Maa Flyover) শনিবার সকালে বড়সড় দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি রাস্তার বিভাজক পেরিয়ে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে। এরপর উলটো দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাতে দুমড়ে যায় দু’টি গাড়িই। ঘটনায় অন্তত চারজন যাত্রী আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
শনিবার সকালে পার্ক সার্কাস (Park Circus) থেকে মা ফ্লাইওভার ধরে এগোচ্ছিল একটি গাড়ি। আচমকাই সেটি চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর ডিভাইডার টপকে বিপরীত দিকের লেনে পৌঁছে যায় গাড়িটি। সেই সময় সামনে থেকে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দু’টি গাড়িরই ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে দুর্ঘটনার সময় উভয় গাড়ির এয়ারব্যাগ (Airbag) খুলে যাওয়ায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এসএসকেএমে ভর্তি এক আহত
এই ঘটনায় দুই গাড়িতে থাকা অন্তত চারজন জখম হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে একজনকে এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
‘খুনের চেষ্টার মামলা হওয়া উচিত’, দাবি অগ্নিমিত্রার
ঘটনাটি নিয়ে আসানসোলে (Asansol) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, এমন বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে অন্যের প্রাণ সংশয়ের কারণ হওয়াকে নিছক পথ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই ঘটনায় খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে গ্রেপ্তার করে আনার কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, হিন্দি সিনেমা (Hindi Cinema) দেখে বাস্তব জীবনে এমন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। ফ্লাইওভারের মতো ব্যস্ত রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোয় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।


