Aaj India Desk, কলকাতা : ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর এবার মুখ খুললেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। চন্দননগরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় যেতে গেলেও নাকি তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হত! এমনই দাবি করলেন সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, ইন্দ্রনীল সেন পছন্দ করতেন না যে তাঁর বিধানসভা এলাকায় অন্য কোনও সাংসদ আসুন। এমনকী, চন্দননগরে যেতে হলে আগে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে কথা বলে নেওয়ার কথাও তাঁকে বলা হয়েছিল বলে দাবি রচনার।
‘আগে ওঁর সঙ্গে কথা বলে নিতে হত’
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রচনা (Rachana Banerjee) বলেন, “উনি পছন্দ করতেন না যে আমি চন্দননগরে যাই। উনি আমায় বলেছিলেন, আমি চন্দননগরে গেলে যেন ওঁর সঙ্গে আগে কথা বলে নিই। উনি থাকলে তবেই যেন ওখানে যাই।” রচনার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন লোকসভা সাংসদকে নিজেরই কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় যেতে অন্য জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে নিতে হত কেন, উঠছে সেই প্রশ্নও।
স্থানীয়দের কাছেও প্রকাশ করেছিলেন আক্ষেপ
চন্দননগরে কয়েকবার গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি রচনার (Rachana Banerjee)। তাঁর কথায়, “আমি চন্দননগরে দু-একবার যখন গেছি, তখন ওখানকার লোকেদের বলেছিলাম, আমি দুঃখিত যে আমি চাইলেও আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারি না।”
রচনার আরও দাবি, ইন্দ্রনীল সেন যে নিজের বিধায়ক এলাকায় অন্য সাংসদের যাতায়াত পছন্দ করতেন না, সে কথা তাঁকে দলের লোকেরাই জানিয়েছিলেন।
তবে ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে এর বেশি কোনও মন্তব্য করতে চাননি হুগলির সাংসদ। রচনার বক্তব্য, একসঙ্গে কাজ করার খুব একটা সুযোগ তাঁর হয়নি। তাই ইন্দ্রনীল সেনের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে ঠিক হবে না।
কী অভিযোগে গ্রেপ্তার ইন্দ্রনীল সেন?
উল্লেখ্য, মাস আর্ট সোসাইটি মামলায় তদন্তের সূত্রে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি ও ডোনার পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কলকাতার একাধিক নামী পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখার জন্য ১,৮০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে পাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেনের যোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর এবার তাঁর রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতি নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। চন্দননগরে সাংসদের যাতায়াত ঘিরে তাঁর এই দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।


