কলকাতা: একসময় ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen) গানের ভক্ত ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে শ্রীকান্তের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের গানের প্রতিযোগিতাও ছিল তাঁর আলোচনার বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সম্পর্কের সমীকরণ! এবার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জেলে যেতেই তাঁকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর সাফ কথা, “শেষ ৫ বছরে ও কোনও কথাই শুনত না।” ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইন্দ্রনীলের একাধিক ঘটনায় তাঁরা আঘাত পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
UNESCO-র লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলে রয়েছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কল্যাণের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, বাংলার এক বিশিষ্ট ও খ্যাতনামা গায়িকাকেও পুজোর অনুষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। ওই শিল্পী বিষয়টি তাঁকে জানানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
শুধু ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) নন, দলের অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না, আরও অনেকে রয়েছেন। যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এতে সৎভাবে রাজনীতি করা লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কর্মী ব্যথিত বলেও দাবি তাঁর। পাশাপাশি, কোনও রাজনৈতিক দলেরই পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি (Kalyan Banerjee)।
ইন্দ্রনীলকে (Indranil Sen) নিয়ে নিজের পুরনো দুর্বলতার কথাও জানিয়েছেন কল্যাণ। নব্বইয়ের দশকে তাঁর গান শোনার জন্য পাগল ছিলেন তিনি। কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘ব্লু-আইড বয়’ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্লু-আইড বয়’ হয়ে ওঠার পরই নাকি তাঁর প্রতি ভালোবাসা কমতে থাকে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কলকাতার ২৪টি বড় পুজো দেখার জন্য UNESCO-র লোগো ব্যবহার করে ১,৮০০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের বিশেষ পাস বিক্রি হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই এখন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ইন্দ্রনীল।


