Aaj India Desk, নদীয়া : রোগীর চিকিৎসার নথিতে কী লেখা হবে, তাও এবার ঠিক করে দেবেন রাজনৈতিক নেতারা! রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে (Ranaghat Hospital) এক মহিলার ডিসচার্জ পেপারে তাঁকে ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ এবং সই করতে অক্ষম বলে উল্লেখ করার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, এই বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সুপারের উপর চাপ সৃষ্টি করেন বিজেপি নেতা। এমনকী, দাবি না মানায় তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই রানাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী।
কী নিয়ে শুরু বিবাদ?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, সম্প্রতি রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল (Ranaghat Hospital) থেকে এক চিকিৎসাধীন মহিলাকে ছুটি দেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই মহিলার ডিসচার্জ পেপারে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম এবং নিজের সই করতে অক্ষম, এমন কথা লিখে দেওয়ার জন্য সুপারের কাছে দাবি জানান বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি স্বপন ঘোষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সুপারের চেম্বারে পৌঁছন স্বপন ঘোষ। অভিযোগ, কোনও অনুমতি ছাড়াই তাঁর ঘরে ঢুকে ওই বিষয়টি নিয়ে চাপ দিতে থাকেন তিনি। কিন্তু সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী স্পষ্ট জানান, সংশ্লিষ্ট রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা না করে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা বা সই করার ক্ষমতা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য নথিভুক্ত করা সম্ভব নয়। এরপরেই তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সুপার
ঘটনার খবর পেয়ে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে (Ranaghat Hospital) পৌঁছয় রানাঘাট থানার পুলিশ। পরে সুপার নিজেই থানায় গিয়ে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার বিজেপি নেতার
অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা স্বপন ঘোষ। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট মহিলার অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করার জন্যই তিনি হাসপাতাল সুপারকে অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানাঘাটে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি তৈরিতে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


