Aaj India Desk, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisek Banerjee) হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার প্রথমে ‘জনতার দরবার’ থেকে অভিষেকের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। এরপর সন্ধ্যায় বারুইপুরে দলের একটি সভা থেকে ফের তৃণমূল সাংসদকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন অভিষেক। শুভেন্দুর দাবি, আগামী নির্বাচনে তিনি সেই জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যাবেন। এমনকি বামেদের ভোট তৃণমূলের দিকে গেলেও অভিষেক কোনও সুবিধা করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের বদলে দিল্লিতে গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শও দেন শুভেন্দু।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে কিছু পুলিশ আধিকারিক তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, আগামী দু’বছরের মধ্যে সরকার পরিবর্তন হলে অভিযুক্ত আধিকারিকদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আইন মেনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার ‘জনতার দরবার’ থেকে সেই বক্তব্যের জবাব দেন শুভেন্দু। অভিষেকের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে অভিষেকের শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে প্রয়োজনীয় এনওসি করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বারুইপুরের সভা থেকেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। অতীতে বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, তাঁর এবং শমীক ভট্টাচার্যের কথায় বিজেপি কর্মীরা আপাতত সংযত রয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০ জনকে সতর্ক করে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ দিন জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। শওকত মোল্লা এবং জাহাঙ্গির খানের নাম উল্লেখ করে তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে জমি দখল করা হয়েছে। সেই জমি উদ্ধার করে তফসিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


