Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূলের কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে অবস্থান বদলের ঘোষণার পরেই চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানকে (Hamidul Rahman) ‘মাফিয়া’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো সমস্ত মামলা নতুন করে খোলার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই হুঁশিয়ারির জবাব দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হামিদুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান (Hamidul Rahman)। তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণার পরেই তাঁকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে একটি সরকারি সভা থেকে হামিদুলকে (Hamidul Rahman) সরাসরি ‘কুখ্যাত গুন্ডা-মাফিয়া’ বলে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। শুধু হামিদুল নন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও নতুন করে অভিযোগ দায়েরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়া এলাকায় সরকারি খাস জমি, চা-বাগানের জমি ও আদিবাসীদের জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি। সেই জমি উদ্ধারের নির্দেশও দিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শুক্রবার মুখ খোলেন হামিদুল রহমান। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফেরার সিদ্ধান্তের কারণেই তাঁকে নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলা হচ্ছে। হামিদুলের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। যদি কোনও মামলা থেকে থাকে, তা খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি বলেন, “আমার নামে কোনও ফাইল নেই। কোনও কেস নেই। আকবর আলি খুনের মামলারও ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। জেল খেটেছি। মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়েছিল রাজনৈতিক কারণে। নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস করেছে আদালত।” শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারিতে তিনি আতঙ্কিত নন বলেও স্পষ্ট করেছেন চোপড়ার বিধায়ক। তাঁর অনুমান, কেউ হয়তো মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে হামিদুল রহমানের রাজনৈতিক শিবির বদলের ঘোষণার পর তাঁকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো মামলা খোলার নির্দেশ, অন্যদিকে বিধায়কের পাল্টা চ্যালেঞ্জ—এই রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।


