কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে পুজোর পরেই যেন বদলে যাচ্ছে খেলার রং! যে বিধায়কেরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদেরই একাংশের মুখে এখন ফের ‘দিদি’ বন্দনা। কেউ বলছেন, ‘মমতাই আমার নেত্রী’, কেউ আবার প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, তাঁরা বরাবরই মমতার অনুগত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ঋতব্রত শিবিরে কি এবার ভাঙনের হাওয়া?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি চর্চায় কাজল শেখ। বীরভূমের এই বিধায়ক সম্প্রতি মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়ার মিষ্টিমুখ করেন। তারপরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কাজল বলেন, ‘মমতাই (Mamata Banerjee) আমার নেত্রী। আমি সর্বদা ওঁর দিকেই আছি।’ তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সুর চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের। তাঁর দাবি, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি দিদির দলেই থাকবেন। মমতার (Mamata Banerjee) প্রতীকেই জিতেছেন, তাই তাঁকেই হাইকম্যান্ড বলে মনে করেন। যদিও তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রায়গঞ্জের সভা থেকে হামিদুলকে নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো মামলা পুনরায় খোলার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহাও মমতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতির কারণে কালীঘাটে গিয়ে বিজয়ার প্রণাম করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, সন্দীপন সাহার সঙ্গে কুণাল ঘোষের দীর্ঘ আলাপচারিতাও বিধানসভার অলিন্দে জল্পনা বাড়িয়েছে। যদিও দু’পক্ষই একে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি করেছে।
মমতা শিবিরের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন একাধিক বিধায়ক। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, মমতাপন্থী (Mamata Banerjee) শিবিরে বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ২৭ হয়েছে।
সব মিলিয়ে যখন বিধায়কদের আনুগত্যের অঙ্ক নিয়ে তুমুল চর্চা, তখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন অস্কার ওয়াইল্ডের বাণী—‘To live is the rarest thing in the world. Most people exist, that is all.’
রাজনীতির মঞ্চে বিধায়কদের ঘরবদল, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনদর্শন! প্রশ্ন একটাই, এ কি নিছক উদ্ধৃতি, নাকি রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝে নিজেকে সামলানোর দর্শন?


