Aaj India Desk, কলকাতা : পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab)। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘিরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বিশেষ করে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ ও বাংলায় তার প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করা জরুরি।
উপকূলের দিকে নজর, বিপর্যয় মোকাবিলায় তৎপরতা
সমুদ্রের উপর শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়টির সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়ে নজরদারি চলছে। ঝড়ের সময় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ওড়িশা সরকার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলার কোন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে?
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর একাধিক জেলায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে দেওয়া পূর্বাভাসে উল্লেখ রয়েছে। তবে কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, তা জানতে জেলা-ভিত্তিক সর্বশেষ বুলেটিন দেখা প্রয়োজন।
‘অর্ণব’ নামের অর্থ কী?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসারেই ‘অর্ণব’ নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলা ভাষায় অর্ণব শব্দের অর্থ সমুদ্র। ঘূর্ণিঝড়কে আলাদা করে চেনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সহজ করতেই এই নামকরণ পদ্ধতি চালু রয়েছে।


