Aaj India Desk, কলকাতা: ককরোচ বাহিনীর আন্দোলনকে আর হালকাভাবে নিতে চাইছে না বিজেপি (BJP)। এবার দেশজুড়ে প্রচারে নেমে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনৈতিক লড়াই শুরু করতে চলেছে পদ্ম শিবির। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নীতিন নবীন বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর এই কর্মসূচি তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
এর আগে NEET পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল বিরোধীরা। সেই আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের একাংশও যোগ দিয়েছিলেন। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সময় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে এবং এর ফলে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।
বিজেপির আশঙ্কা, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এখন থেকে পাল্টা প্রচারের কৌশল নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন তুলবেন, ভারত কি বাংলাদেশ বা নেপালের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার পথে এগোচ্ছে?
দেশে কীভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে বিজেপির আইটি সেলকেও বিশেষ প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। শুক্রবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। বৈঠকে রাজ্যের নেতাদের মধ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই কর্মসূচিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা রাজ্যের প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন বিজেপির লক্ষ্য।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মিছিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মিছিলে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে সামিল করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি নেতাদের। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধীদের আন্দোলন এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে দলের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।
শুধু তাই নয়, যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছতে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে পদ্ম শিবির। এদিকে, ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও উত্তরাখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই নির্বাচনগুলির আগে বিরোধীরা আন্দোলনের গতি বাড়াতে পারে। তাই তার আগেই বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব কমিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে, নতুন সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে বিজেপি। এই প্রচার কতটা মানুষের সমর্থন পায় এবং বিরোধীদের আন্দোলনের উপর তার কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


