28.8 C
Kolkata
Sunday, October 25, 2026
spot_img

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ! ৩০ অক্টোবর কী করতে চলেছে বিরোধীরা?

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় (Voter List) কারচুপি, এসআইআর (SIR)-এ অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এবার সেই প্রতিবাদকে আরও বড় আকার দিতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট (India Allience)। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ অক্টোবর একটি প্রতীকী ‘জনগণের ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি আরও জোরালো করতে চাইছে তারা।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদ ও শীর্ষ নেতা একত্রিত হবেন। সেখানে প্রতীকী অধিবেশনের মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরা হবে এবং তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানানো হবে।

ভোটার তালিকা নিয়ে কী অভিযোগ বিরোধীদের?

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সময় বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে INDIA জোট।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আগেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ ছাড়াও, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩-এর ১৬ নম্বর ধারা বাতিলের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নির্বাচন কমিশনারদের যে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তার ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ বিজেপির ইন্ডিয়া জোটের এই উদ্যোগকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। শাসক দলের দাবি, বিরোধীরা নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নিতে না পেরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনছে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী এবং INDIA জোট বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে চাইছে। তাঁর দাবি, এর আগে বিচারব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিশানা করার পর এবার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনেই স্বাধীনভাবে কাজ করে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্যই বিরোধীরা এই ধরনের কর্মসূচি করছে।

৩০ অক্টোবরের পর ১ নভেম্বর ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি

শুধু প্রতীকী ইমপিচমেন্টেই থামতে চাইছে না INDIA জোট। ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচির পর আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দান পর্যন্ত ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের। এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামিল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ‘জনগণের ইমপিচমেন্ট’ একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি মাত্র। এর মাধ্যমে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়। সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সংসদীয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় এবং তার জন্য সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিশনের বক্তব্য, মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম থাকলে তা সংশোধন করা নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই কাজ আইন মেনেই করা হয় বলে দাবি কমিশনের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন