Aaj India Desk, কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কখনও কলকাতা পুরসভার মেয়র, কখনও বিধায়ক, আবার কখনও রাজ্যের মন্ত্রী। কিন্তু সেই রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়ের দিকে কি এবার এগোচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)? আসন্ন পুরভোটে (Municipal Election) লড়বেন না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে তাঁর পরিবারের কেউ রাজনীতিতে থাকবেন কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কলকাতা বন্দরের বিধায়ক।
পাঁচবারের কাউন্সিলর, দু’বারের কলকাতার মেয়র এবং চারবারের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। দু’বার মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ববি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নিজের কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন তিনি। রাজ্যজুড়ে তাঁর দলের ফল খারাপ হলেও নিজের আসন ধরে রাখতে পেরেছেন ফিরহাদ। কিন্তু এবার সেই রাজনৈতিক জীবন থেকেই ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি।
ঘনিষ্ঠ মহলে ফিরহাদ জানিয়েছেন, আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে তিনি কোনও দলের হয়েই প্রার্থী হবেন না। তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমও পুরভোটে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রিয়দর্শিনী। তবে এবার পরিবারের কাউকেই পুরভোটের ময়দানে নামানোর পরিকল্পনা নেই বলে খবর।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ফিরহাদের বক্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা বন্দরের বিধায়ক হিসেবে যতদিন তাঁর মেয়াদ থাকবে, ততদিন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হলে আর রাজনীতিতে থাকতে চান না। তাঁর কথায়, রাজনীতির ‘পঙ্কিল আবর্তে’ ভবিষ্যতে আর থাকতে চান না তিনি।
কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের সময়কালও ছিল নানা আলোচনা ও বিতর্কে ঘেরা। পুরসভার কাজে গতি আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই আর্থিক অনিয়ম ও বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে তদন্তের বিষয়টিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বদল এসেছে। বিজেপি সরকার গঠনের পর কলকাতা পুরসভার উপর ফিরহাদের নিয়ন্ত্রণ আগের মতো ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর জুন মাসে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য।
তবে শুধু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছেন ফিরহাদ। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি নাকি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিভিন্ন কারণে তাঁর পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সেই কারণেই রাজনীতির প্রতিযোগিতা ও টানাপোড়েন থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আসন্ন পুরভোটে ফিরহাদ হাকিমের না থাকার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিধায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সত্যিই কি রাজনীতিকে বিদায় জানাবেন ববি? আর তাঁর সিদ্ধান্তে কি হাকিম পরিবারের রাজনৈতিক অধ্যায়েরও ইতি ঘটবে? আপাতত সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


