Aaj India Desk, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবিরে কি আর ফিরবেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)? এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। সরাসরি কারও নাম না করলেও, ‘রক্ত’ আর ‘ভক্ত’-এর তুলনা টেনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেন ফিরহাদ। তাঁর মন্তব্যের নিশানায় যে মমতা এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ফিরহাদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
‘রক্তকে ছেড়ে ভক্তকে ডাকলে যাব’
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি একাধিক দফতরের কাজও দেখেছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরে যোগ দেন ফিরহাদ।
কেন তিনি মমতার সঙ্গ ছাড়লেন, সেই প্রশ্নে আগেও অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের অন্দরে অভিযোগ জানানোর মতো উপযুক্ত সুযোগ ছিল না। দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও অভিষেকের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মমতার শিবিরে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ বলেন, “দিদি যদি কোনও দিন রক্তকে ছেড়ে ভক্তকে ডাকে, ভক্ত যাবে। কিন্তু আপাতত উনি রক্তকে নিয়েই আছেন।”
ফিরহাদকে পাল্টা আক্রমণ কুণালের
ফিরহাদের এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা সরব হন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচিতি ও নেতৃত্বের উপরেই ফিরহাদের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিস্বার্থে তিনি মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগ করেন কুণাল।
ফিরহাদের পুরনো দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বলেন, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেয়র-ইন-কাউন্সিল (MIC) এবং একাধিক জেলার দায়িত্ব সব ক্ষেত্রেই ফিরহাদের উপর আস্থা রেখেছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, মাঝপথে ফিরহাদ সরে যাওয়ায় কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বিজেপি (BJP)। তা না হলে সাধারণ মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হত বলেও দাবি করেন তিনি।
ফিরহাদকে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণকারী বলেও কটাক্ষ করেছেন কুণাল। সব মিলিয়ে ‘রক্ত-ভক্ত’ মন্তব্য ঘিরে মমতা-অভিষেকের নেতৃত্ব, দলবদল এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে।


