31.6 C
Kolkata
Friday, October 23, 2026
spot_img

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রস্তাব এলে কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? স্পষ্ট করলেন ওম বিড়লা

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) পদ থেকে সরানোর দাবিতে বিরোধীরা নতুন করে প্রস্তাব আনলে সংসদে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তার মোকাবিলা করা হবে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে এবং তা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

ভোটার তালিকার (Voter list) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সামনে এল স্পিকারের এই মন্তব্য। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজের ক্ষমতা একতরফা ও স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবহার করছেন। এই অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

দ্বাদশ ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে ওম বিড়লা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রস্তাব আনা হলে তা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। বিচারকদের অপসারণের জন্য যেমন নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, তেমনই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও আইন মেনে এগোনোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিয়ে কী অবস্থান বিরোধীদের?

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করেছে বিরোধী দলগুলি। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, ২০২৩ সালে আনা সেই আইন বাতিলের দাবিও তুলেছে বিরোধীরা, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বিশেষ আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে পদক্ষেপ করার জন্য এর আগে দু’বার উদ্যোগ নিয়েছে বিরোধী পক্ষ।

প্রথমবার আনা নোটিশ লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই খারিজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় জমা দেওয়া কিছু নোটিশ এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে অপসারণের ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের ক্ষেত্রেও সংসদে একই ধরনের নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কোনও নির্বাচন কমিশনার চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদ ছাড়তে পারেন।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন কি ডাকা হবে?

এদিকে, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নিয়েও ওম বিড়লাকে প্রশ্ন করা হয়। সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিল সংসদে আনার সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রশ্ন ওঠে। এই প্রস্তাবগুলির সঙ্গে আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পরিকল্পনার যোগ রয়েছে। তবে বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি লোকসভার স্পিকার। বরং সংসদের অধিবেশন পরিচালনা ও সমাপ্ত করার সাংবিধানিক নিয়মের কথা তুলে ধরেন তিনি।

গত ১৩ অগাস্ট বর্ষাকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। কিন্তু সংসদের অধিবেশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ওম বিড়লা জানান, সংসদ মুলতবি হওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার মধ্যে দীর্ঘ বিরতি থাকা নজিরবিহীন নয়।

এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৮৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন তিনি। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার পরামর্শে সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্ত করতে পারেন। পাশাপাশি লোকসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে রাষ্ট্রপতির। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের দুটি অধিবেশনের মধ্যে ছয় মাসের বেশি ব্যবধান রাখা যায় না। তবে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর কত দিনের মধ্যে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি, সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ডাকতে ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ অধিবেশনের ক্ষেত্রে অন্তত তিন দিনের নোটিশের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি ঘিরে বিরোধীদের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও, নতুন কোনও প্রস্তাব সংসদে এলে তা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই বিবেচনা করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন