Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল থেকে শুরু করে দলের নেতৃত্ব একাধিক ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রধান বিরোধী দল অন্য রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ চায় না। বরং নিজেদের পছন্দের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করতেই বেশি আগ্রহী তারা। কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি দলের নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রচেষ্টা নিয়েও বিদ্রুপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে, তখন মোদীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাজের সমালোচনা করা এবং পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কংগ্রেস সেই আন্দোলনের ইতিবাচক দিকগুলিকেও নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, দলটি নিজে যেমন অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় না, তেমনই বিরোধী শিবিরের নতুন প্রজন্মের নেতাদেরও যথাযথ গুরুত্ব দেয় না।
কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে আক্রমণ করতে গিয়ে মোদী ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxals) শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মানসিকতা দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।
রকেট উৎক্ষেপণের উদাহরণে রাহুলকে কটাক্ষ
কংগ্রেসের নেতৃত্বকে বারবার সামনে আনার চেষ্টা নিয়ে বিদ্রুপ করতে গিয়ে শ্রীহরিকোটা (Sriharikota)-র মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে যতবার রকেট উৎক্ষেপণ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।
নাম না করেও রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) লক্ষ্য করেই এই মন্তব্য বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। একই সঙ্গে পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন মোদী। তবে এই বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন
এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ অব্যাহত। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
গত ৬ অক্টোবর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra), ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) এবং অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)-সহ বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে পদযাত্রা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর ১২ অক্টোবর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ (March for Democracy) কর্মসূচির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Alliance)।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া এবং যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করতেই SIR প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি ও কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।


