Aaj India Desk, হাওড়া: বর্ষার শেষেও ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ কমার লক্ষণ নেই হাওড়ায়। ডোমজুড়ের বাঁকড়া এলাকায় একের পর এক মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য দফতরের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে ডোমজুড় এলাকায় নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনই বাঁকড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মশা নিয়ন্ত্রণ, নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার এবং জমা জল সরানোর কাজে জোর দিয়েছে প্রশাসন।
বাঁকড়ার তিন এলাকায় বাড়ছে সংক্রমণ
বাঁকড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মণ্ডলপাড়া, নিউ মণ্ডলপাড়া এবং উত্তরপাড়া এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে খবর। এই তিনটি এলাকা মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯। ডোমজুড়ের মধ্যে এই পঞ্চায়েত এলাকাতেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তদের অনেকেই হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গিয়েছে।
হাওড়া শহরেও ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ
শুধু ডোমজুড়ের গ্রামীণ এলাকাই নয়, হাওড়া পুরসভা এলাকাতেও ডেঙ্গির প্রকোপ চিন্তা বাড়াচ্ছে। পুরসভা এলাকায় এখনও পর্যন্ত ৪৭ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর হাওড়া জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৪৭। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৩ জন। এর মধ্যে হাওড়া শহর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫০। গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
জমা জল ও আবর্জনা সরাতে বিশেষ উদ্যোগ
হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত (Kishalay Dutta) জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় নর্দমায় আবর্জনা জমে জল আটকে থাকছে। সেই জমা জল ডেঙ্গিবাহী মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় ভেক্টর কন্ট্রোল টিম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, মশা মারার তেল স্প্রে এবং নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে।
পঞ্চায়েত, জেলা প্রশাসন ও রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে জঞ্জাল সরানো এবং মশার প্রজননস্থল নষ্ট করার কাজেও জোর দেওয়া হয়েছে। বাঁকড়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাগুলিতেও নজরদারি চলছে।
ডেঙ্গি ঠেকাতে কী করবেন?
স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য সামগ্রীতে জমে থাকা জল নিয়মিত ফেলে দেওয়া এবং নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, হাওড়ায় ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।


