Aaj India Desk, মুম্বাই: টাইগার শ্রফের (Tiger Shroff) গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তদের দাবি, টাইগার শ্রফের আগে বলিউডের আরও দুই তারকাকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেই তালিকায় নাম রয়েছে সলমন খান (Salman Khan) ও রণবীর কাপুরের (Ranbir Kapoor)।
প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছিল, প্রথমে মুম্বইয়ে সলমন খানের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পরিকল্পনা করেছিল তারা। সেই মতো তাঁর বাড়ির আশপাশে নজরদারিও চালানো হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু বাড়ির বাইরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা দেখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। এরপর তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে সূত্রের উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা নাকি রণবীর কাপুরের বাড়ির আশপাশেও ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
সলমন খানকে ঘিরে এই খবর সামনে আসার পর মুম্বইয়ের বান্দ্রায় তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বাড়ির ভিতরে ও বাইরে এবং রাস্তার দু’পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় নজরদারির জন্য রয়েছে পুলিশের টহলদারি ভ্যানও।
গত রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বেরোনোর সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ এই হামলা হয় বলে জানা গিয়েছে। গুলিতে টাইগার শ্রফ সরাসরি আহত না হলেও তাঁর গাড়ির চালক জখম হন।
সূত্রের খবর, হামলাকারীরা আগে থেকেই টাইগারের যাতায়াতের উপর নজর রাখছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। প্রতি রবিবার তিনি যে ফুটবল মাঠে খেলতে যান, সেই তথ্যও হামলাকারীদের কাছে ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বুধবার আরও দু’জনকে হেফাজতে নেয় মুম্বই পুলিশ। অভিযোগ, তারা এই ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করতে সাহায্য করেছিল।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা ১৮ বছরের রেহান রহিসউদ্দীন ও ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছরের হৃতিক মাহতো। পুলিশের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলা শেষে টাইগার শ্রফের গাড়ি বেরোনোর সময় সেটিকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়। তবে সলমন খান ও রণবীর কাপুরকে নিশানা করার যে দাবি সামনে এসেছে, তা অভিযুক্তদের জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।


