34.6 C
Kolkata
Thursday, October 15, 2026
spot_img

‘আগে পুজোয় আবেগ ছিল না, এখন সত্যিকারের দুর্গাপুজো’! এ কেমন দাবী দিলীপের?

কলকাতা: দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) মানেই ঢাকের বাদ্যি, কাশফুল, নতুন জামা আর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা। কিন্তু বাংলায় এতদিন না কি দুর্গাপুজো নিয়ে কোনও আবেগ ছিল না! এমনটাই মনে করেন বিজেপির ‘দাবাং’ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)!

তাঁর মতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই বাংলায় আসল দুর্গাপুজো হচ্ছে! যদিও বলাই যায়, এ বার পুজোর মেনুতে আরও কয়েকটি পদ জুড়েছে! যেমন, অনুদানের হিসেব, রাস্তার রং এবং মা দুর্গার একটি বাড়তি হাত! সব মিলিয়ে পুজোর আনন্দের পাশাপাশি রাজনীতির মশলাও বেশ জমে উঠেছে। আর সেই মশলায় নতুন করে ফোড়ন দিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

দিলীপের দাবি, এতদিন বাংলায় দুর্গাপুজো ঘিরে মানুষের মধ্যে নাকি সেই আবেগ ছিল না। তাঁর কথায়, আগে মানুষের মন ভোলাতে টাকা দেওয়া হত, আর এখন নাকি সত্যিকারের দুর্গাপুজো হচ্ছে। অর্থাৎ, পুজোর আবেগেরও যেন পুরনো-নতুন সংস্করণ রয়েছে! তবে এই আবেগ মাপার যন্ত্রটি ঠিক কী, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি।

পুজোর (Durga Puja 2026) অনুদানের হিসেবও তুলে ধরেছেন দিলীপ (Dilip Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, আগে ৪৫ হাজার পুজো অনুদান পেত, আর এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার। অর্থাৎ, আরও ১২-১৩ হাজার পুজো কমিটির ঝুলিতে সরকারি অনুদান পৌঁছেছে। মহালয়া থেকেই বোধন শুরু হয়েছে, গোটা রাজ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের পরিবেশ, এমনটাই দাবি তাঁর। সব মিলিয়ে দিলীপের বক্তব্য, বাংলায় এ বার পুজোর আবেগ একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।

তবে এবার পুজোর (Durga Puja 2026) মরশুমে সবচেয়ে নজরকাড়া বিতর্ক বোধহয় দুর্গাপ্রতিমার হাত নিয়ে। রাজ্য সরকারের কয়েকটি বিজ্ঞাপন ও পোস্টারে দুর্গার ১০টির বদলে ১১টি হাত দেখা যাওয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা। দেবী দুর্গার হাতে অস্ত্র থাকে, কিন্তু পোস্টারে অতিরিক্ত হাত এল কীভাবে?সেই প্রশ্নেই সরগরম চর্চা।

এখানেই দিলীপের (Dilip Ghosh) কটাক্ষ, “যেভাবে সরকার কাজ করছে, ১০ হাতে হচ্ছে না। ১১ হাতের দরকার আছে। সেই জন্যই হয়তো হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” অর্থাৎ, দেবীর অতিরিক্ত হাতের ব্যাখ্যায় সরকারের কাজের গতিকেই টেনে আনলেন তিনি। রাজনীতির ভাষায় বললে, পোস্টারের একটি হাত যেন বাড়তি কটাক্ষের সুযোগ করে দিল!

তবে শুধু কটাক্ষ করেই থামেননি দিলীপ। তাঁর মতে, এটি কোনও শিল্পীর ভুলও হতে পারে, তাই এ বিষয়ে সাবধান থাকা উচিত। ফলে ১১ হাতের বিতর্কে একদিকে রসিকতা, অন্যদিকে ভুল হলে তা সংশোধনের বার্তাও রয়েছে তাঁর বক্তব্যে।

এদিকে কলকাতা জুড়ে পুজোর (Durga Puja 2026) সাজসজ্জা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাংলার উৎসবকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা শহর। গ্রামের মানুষের মধ্যেও পুজো নিয়ে বিপুল উৎসাহ রয়েছে। আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন করে ঠাকুর দেখার প্রবণতাও চোখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর (Dilip Ghosh) মতে, মানুষ খুশি, উৎসবের পরিবেশও জমজমাট, তাই এ বারই নাকি হচ্ছে ‘সত্যিকারের দুর্গাপুজো’।

কিন্তু উৎসবের রঙের মধ্যেও যে একটু পিচ্ছিল বিপত্তি থাকতে পারে, তা মনে করিয়ে দিয়েছে রাস্তার আল্পনা নিয়ে বিতর্ক। কিছু জায়গায় রাস্তা সাজাতে রং ও আল্পনা ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে কোথাও বাইক স্কিড করেছে, আবার কোথাও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দিলীপ বলেছেন, বৃষ্টি বা অন্য কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে এবং আলোচনা করে দেখা হবে। সত্যিই রাস্তার রং থেকে বিপত্তি ঘটলে তা সরিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি (Dilip Ghosh)।

সব মিলিয়ে, বাংলার পুজোয় (Durga Puja 2026) এ বার দেবীর হাতের সংখ্যা থেকে সরকারি অনুদানের অঙ্ক, সবই আলোচনার কেন্দ্রে। কোথাও উৎসবের আবেগ নিয়ে দাবি, কোথাও পোস্টারের বাড়তি হাত নিয়ে খোঁচা, আবার কোথাও রাস্তার আল্পনা নিয়ে প্রশ্ন। ঢাকের তালে তালে পুজো এগোচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রাজনীতির মণ্ডপেও যে কম ভিড় হচ্ছে না, তা বলাই যায়।

শেষ কথা? দেবী দুর্গার দশ হাতে অসুরদমন, আর বাংলার পুজোয় এ বার এগারো হাত নিয়ে রাজনৈতিক তরজা! তবে উৎসবের সাজ যেন আনন্দ বাড়ায়, বিপত্তি নয়, সেই প্রত্যাশাই থাকুক সবার।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন