Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: একদা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে করা একটি মন্তব্য থেকেই শুরু আইনি লড়াই। ২০১৮ সালের সেই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় এবার বড়সড় স্বস্তি পেলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। নিম্ন আদালতে চলা মামলার গতি আপাতত থামিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত মুম্বইয়ের গিরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে চলা মানহানির মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এর আগে বোম্বে হাইকোর্টে মানহানির মামলায় জারি হওয়া সমন বাতিলের আবেদন করেছিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শীর্ষ আদালতে রাহুলের হয়ে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। অভিযোগকারী বিজেপি নেতা তথা কর্মী মাহেশ শ্রিশ্রিমল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮-তে রাজস্থানের একটি জনসভায় রাফাল চুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছিলেন। সেই বক্তব্যে ‘চোর কা সর্দার’ এবং ‘কমান্ডার-ইন-থিফ’-এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মন্তব্য শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বিজেপির সদস্যদেরও মানহানি করেছে। ২০১৯ সালের ২৮ অগস্ট গিরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সমন জারি করে। সেই সমন বাতিলের জন্য তিনি প্রথমে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন। সেখানে স্বস্তি না মেলায় পরে সুপ্রিম কোর্টে যান কংগ্রেস সাংসদ।
এবার শীর্ষ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী শুনানিতে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ স্পষ্ট হতে পারে।


