Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় পার্টি অফিসের জমি ও সম্পত্তির নথিপত্র (CPM Property Documents) খতিয়ে দেখে সেগুলি আইনি দিক থেকে সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নিল সিপিএম। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সমস্ত জেলা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পার্টি অফিসের দলিল, মিউটেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। কোথাও মৃত ব্যক্তির নামে সম্পত্তির নথি থাকলে, আইন মেনে সেই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হলে যাতে প্রস্তুত থাকতে পারে দল, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে দলীয় সূত্রে খবর।
জেলা থেকে রাজ্য, নথি রাখায় জোর
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, রাজ্যের সর্বত্র সিপিএমের পার্টি অফিসগুলির নথি (CPM Property Documents) খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। জেলা কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি অফিসের নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, জেলার স্তরে সমস্ত পার্টি অফিসের নথি কেন্দ্রীয়ভাবে রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। দলের বিভিন্ন শাখা ও বিভাগের হিসাবপত্র গুছিয়ে রাখার উপরেও জোর দিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
‘ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত থাকতে হবে’
এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে আমাদের ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। গত অগস্টে কল্যাণীতে দলের বর্ধিত অধিবেশনেও এই বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।” দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, ভবিষ্যতে জমি, সম্পত্তি বা পার্টি অফিসের মালিকানা নিয়ে কোনও আইনি প্রশ্ন উঠলে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রয়োজন হলে আদালতে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার মতো অবস্থায় থাকতে চাইছে সিপিএম।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বাম শাসনকালে সিপিএমের পার্টি অফিস এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের দফতর রাজ্যের নানা প্রান্তে গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতা হারানোর পরেও দলের কিছু নির্মাণ ও পরিকাঠামোগত কাজ এগিয়েছে। নিউ টাউনে জ্যোতি বসু গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। অন্যদিকে, এজেসি বোস রোডে দলের মুখপত্র ‘প্রভাত’-এর দফতরের পাশের জমিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিস্তৃত সম্পত্তি ও দফতরের নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-বিরোধী আন্দোলনের সময় বামপন্থী-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে ‘হাম কাগজ নেহি দেখায়েঙ্গে’ স্লোগান শোনা গিয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সিপিএমের নথি গুছিয়ে রাখার উদ্যোগকে মিলিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।।তবে দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নথি সংরক্ষণের কাজ নতুন করে শুরু হয়নি। কল্যাণীর বর্ধিত অধিবেশনের আগেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগে আরও গতি এসেছে।


