Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের হাতে আটক হওয়া পড়ুয়া ও যুবদের জন্য বড় স্বস্তি। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে পাটিয়ালা হাউজ কোর্ট। সোমবার গভীর রাতে পৃথক চারটি আদেশে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (JMFC) অনিমেশ কুমার।
কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল?
পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতেই ওই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা অনুমতি ছাড়াই জমায়েত করেছিলেন। বিক্ষোভের সময় রাস্তা অবরুদ্ধ করা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করার মতো অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই কারণ দেখিয়েই ধৃতদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও অভিযুক্তদের বয়স খুব কম। তাঁরা পড়াশোনা করছেন এবং তাঁদের কারও বিরুদ্ধে নিয়মিত অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য নেই। ফলে তদন্ত চলাকালীন তাঁদের জেলে পাঠিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা আদালত দেখছে না।
একাধিক শর্তে মিলল মুক্তি
আদালতের নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই ১৭ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ব্যক্তিগত বন্ডের পাশাপাশি সমপরিমাণ জামিনদার দিতে হয়েছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও সাক্ষীর উপর চাপ তৈরি করা যাবে না। কোনও প্রমাণ নষ্ট বা তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করা যাবে না।
জামিনে থাকার সময় নতুন কোনও অপরাধে জড়ালে সমস্যা বাড়তে পারে। অভিযুক্তদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং সচল মোবাইল নম্বর তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। শুনানির দিনগুলিতে আদালতে উপস্থিত থাকাও বাধ্যতামূলক। আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না। এই শর্তগুলির কোনওটি ভাঙা হলে জামিন বাতিলের আবেদন করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগেও কড়া পদক্ষেপ
মামলায় আরও একটি বিষয় আদালতের নজরে এসেছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জন দাবি করেছেন, পুলিশের হেফাজতে তাঁদের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP)-এর কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।
শুধু তাই নয়, বিক্ষোভের সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হওয়া অভিযুক্তদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে ১৭ জনের জামিনে স্বস্তি মিলেছে, অন্যদিকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও তদন্তের পথ খুলে দিয়েছে আদালতের নির্দেশ।


