Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রামে (Nandigram) ২০২১ সালের ভোটপ্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ে যে আঘাত লেগেছিল, তা নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, সেই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা আসলে ভাঙেনি। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি এম আর বাঙুর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান রিপোর্টের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, পা ভাঙার ঘটনা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে নন্দীগ্রামের মানুষকেও অপমান করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য মানতে নারাজ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তবে সেই আঘাতের কারণে হাড় ভেঙেছিল কি না, তা নিয়ে সরাসরি দাবি করেননি কুণাল। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ পা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
কুণাল ঘোষের দাবি, নন্দীগ্রামের ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন তাঁর আঘাতের গুরুত্ব কতটা ছিল। তাঁর মতে, শুধু হাড় ভাঙা নয়, হাড়ের পাশাপাশি পেশি ও নরম টিস্যুতে গুরুতর চোট লাগলেও তা সেরে উঠতে অনেক সময় লাগে। কুণালের দাবি, এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ফোলা রয়েছে এবং হাঁটাচলায় সমস্যাও হয়।
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই রিপোর্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে রাজনৈতিক আক্রমণ বলেও অভিযোগ করেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেই এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসই মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে।
এদিকে, প্রকাশ্যে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুক ও পায়ের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিয়েও চিকিৎসক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টে পা বা বুকের হাড় ভাঙা কিংবা হাড় সরে যাওয়ার কোনও উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, ওই রিপোর্টগুলিতে বুক বা পায়ে গুরুতর চোটের স্পষ্ট প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ফলে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ঠিক কী ধরনের আঘাত লেগেছিল, তা নিয়ে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।


