Aaj India Desk: ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi) র জীবন থেমে গিয়েছিল। কিন্তু থামেনি তাঁর রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলি। সত্য কি রাজনীতির শক্তি হতে পারে? অস্ত্র ছাড়াই কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব? উন্নয়ন কি শুধু উৎপাদন আর ভোগের হিসাব? সমাজে বৈষম্য থাকলে স্বাধীনতার অর্থই বা কতটা পূর্ণ? আর মতের অমিলের মধ্যেও কি প্রতিপক্ষের মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে লড়াই করা সম্ভব?
প্রায় আট দশক পরও প্রশ্নগুলি অস্বস্তিকরভাবে প্রাসঙ্গিক
ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যখন সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ক্রমশ জটিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতভেদ মুহূর্তেই সংঘাতে রূপ নেয়, আর উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে পরিবেশের সংকট তখন গান্ধীকে নতুন করে পড়ার প্রয়োজন তৈরি হয়। তবে সেই পাঠ নিছক শ্রদ্ধার নয়। কারণ গান্ধীর ভাবনার সঙ্গে যেমন রয়েছে গভীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণা, তেমনই রয়েছে তীব্র বিতর্ক, সীমাবদ্ধতা এবং সমালোচনা।
গান্ধীকে তাই শুধু ‘মহাত্মা’ হিসেবে দেখলে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হয়তো বাদ পড়ে যায়। তিনি ছিলেন এমন এক চিন্তার পরীক্ষক, যিনি নিজের জীবনকেই বানিয়েছিলেন পরীক্ষাগার। সত্য, অহিংসা, আত্মসংযম, সামাজিক ন্যায় ও সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এই ধারণাগুলিকে তিনি কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে দেখতে চেয়েছিলেন।
আর সেখানেই শুরু হয় গান্ধীকে বোঝার আসল গল্প একজন নেতার নয়, বরং এমন এক মানুষের, যিনি নিজের বিশ্বাসকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে প্রস্তুত ছিলেন।


