Aaj India Desk, উত্তরপ্রদেশ: মথুরা-বৃন্দাবনের অন্যতম পরিচিত সাধু সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ (Premanand Maharaj)। তাঁর দর্শন পেতে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ বৃন্দাবনে (Vrindavan) আসেন। প্রতিদিনই আশ্রমের বাইরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাসিক দুলারি শরণও।
সম্প্রতি বৃন্দাবনের বরাহ ঘাট রোডে অবস্থিত গউ কৃপা কুঞ্জ আশ্রমের ছাদ থেকে পড়ে রাসিক দুলারি শরণের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তিনি নিজে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে কেউ ধাক্কা দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। পাশাপাশি ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রেমানন্দ মহারাজ নিজে এই আশ্রমে থাকেন না। এই ঘটনার পর আশ্রমের ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেলি কুঞ্জ আশ্রমে দীক্ষা দেওয়ার অনুষ্ঠান আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে টোকেনের মাধ্যমে যে দর্শনের ব্যবস্থা ছিল, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, যমুনা বিহার কুঞ্জ ও বেলবনে থাকা আশ্রমে দীক্ষিত ভক্তদের জন্য যে দর্শনের ব্যবস্থা ছিল, সেটিও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আশ্রমে থাকা সেবাদাররা ভক্তদের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে আপাতত আগের মতো করে আশ্রমে এসে দর্শন বা দীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
এর পাশাপাশি কেলি কুঞ্জ আশ্রমে শিষ্যদের পোশাকের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে শিষ্যরা গৃহস্থ এবং কোনও ব্যবসা বা পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সাধারণ পোশাক অথবা কুর্তা-পায়জামা পরতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে সেই গৃহস্থ শিষ্যদের ক্ষেত্রেও, যারা পূজ্য মহারাজজি বা কেলি কুঞ্জের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদেরও সাধারণ পোশাক কিংবা কুর্তা-পায়জামা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাদা পোশাক পরার অনুমতি শুধুমাত্র সেই শিষ্যদের থাকবে, যারা পূজ্য মহারাজজির সেবা অথবা কেলি কুঞ্জের পরিচালনা ও সেবামূলক কাজে সরাসরি যুক্ত। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক ঘটনার পর আশ্রমের দর্শন, দীক্ষা এবং শিষ্যদের পোশাক—তিন ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।


